বাধ্য’ করেছে

Advertisement

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দুই দফা ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এ সময় অধিকাংশ বুথফেরত জরিপে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিললেও এ নিয়ে মুখ খুলেছেন রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস-এর নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।

তিনি অভিযোগ করেন, বুথফেরত জরিপ প্রকাশে বিজেপি টাকা দিয়ে চাপ সৃষ্টি করেছে। তার দাবি, ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়েও বেশি—অন্তত ২২৬টি আসনে জয় পাবে তৃণমূল কংগ্রেস।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় মমতা বলেন, ‘আমি আপনাদের নিশ্চিত করে বলতে চাই, টেলিভিশনে যা দেখানো হচ্ছে, তা বিজেপি অফিস থেকেই গতকাল (বুধবার) বেলা ১টা ০৮ মিনিটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। টাকা দিয়ে বলা হয়েছে, যেন এভাবেই ফল দেখানো হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে নির্দিষ্ট তথ্য এসেছে ঠিক ১টা ০৮ মিনিটে। একটি সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে পাওয়া সেই তথ্যে দেখা যাচ্ছে, তারা জোর করে বলছে—‘এটা করতেই হবে’।’

গত ১৫ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় থাকা এই নেত্রী বলেন, ‘কারণটা আপনারা জানেন? আমরা ২৩০টিরও বেশি আসন পেতে পারি। ২০২৬ সালে ২২৬-এর বেশি আসন পাব—এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত। মানুষ যেভাবে ভোট দিয়েছে, তাতে আমার পূর্ণ আস্থা আছে।’

নির্বাচন চলাকালে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে ‘যৌথ নির্যাতনের’ অভিযোগও তোলেন তিনি। তার ভাষ্য, তৃণমূলের কর্মীদের ওপর ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে।

ভোটার ও দলীয় কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে মমতা বলেন, ‘প্রচণ্ড রোদ উপেক্ষা করে, নানা ধরনের নির্যাতন সহ্য করেও আপনারা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন—এর জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার কর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞ, যারা জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও স্থানীয় বাহিনীর সম্মিলিত চাপ, পুরো সরকারি যন্ত্র— প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং ১৯টি রাজ্যের বিজেপি নেতাদের শক্তি— সবকিছু নিয়েও বাংলার মানুষকে দমিয়ে রাখা যায়নি। শেষ পর্যন্ত ভোটের বাক্সেই জবাব দেওয়া হয়েছে।’

মমতা আরও অভিযোগ করেন, ‘বিজেপি ইডি, সিবিআইসহ বিভিন্ন সংস্থাকে ভয় দেখায়। কেন্দ্রীয় বাহিনী গতকাল (বুধবার) যে আচরণ করেছে, নতুন নিয়োগ পাওয়া কিছু পুলিশ সদস্য— যারা আমার নিয়ন্ত্রণে ছিল না— তারা নারী ও শিশুদের ওপরও হামলা চালিয়েছে। উদয়নরায়ণপুরে ভোট দিতে গিয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। তার পরিবারের পাশে আমরা থাকব।’

তার দাবি, তৃণমূলের কর্মীরা একতরফাভাবে হামলার শিকার হয়েছেন, তবু এলাকা ছাড়েননি। অনেককে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

কয়েকটি কেন্দ্রের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে, যাতে তারা এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে না পারেন। বিশেষ করে ভাটপাড়া, নোয়াপাড়া ও জগদ্দলে এ ঘটনা ঘটেছে। ভবানীপুরেও সারা রাত তল্লাশি চালানো হয়েছে। আমি নিজেও দুই দিন ঘুমাতে পারিনি।’

বুথফেরত জরিপ প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘বিজেপি সংবাদমাধ্যমকে ব্যবহার করে শেষ চেষ্টা করেছে, যাতে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে আমাদের কর্মীদের মনোবল ভেঙে দেওয়া যায়। আসল ফল প্রকাশ পেলে শেয়ারবাজারে ধস নামতে পারে— এই আশঙ্কা থেকেই এমনটা করা হয়েছে বলে আমার কাছে তথ্য রয়েছে।’

তিনি দাবি করেন, ‘২০১৬ ও ২০২১ সালেও একই ঘটনা ঘটেছিল। বুথফেরত জরিপে যা দেখানো হয়েছিল, তার বেশিরভাগই বিজেপির প্রভাবে প্রকাশিত।’

ভারতে বর্তমানে ‘নিরপেক্ষতা বলে কিছু নেই’—এমন মন্তব্য করে বিজেপির কড়া সমালোচনা করেন মমতা বন্দোপাধ্যায়।

উল্লেখ্য, বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যা থেকেই বিভিন্ন বুথফেরত জরিপ প্রকাশ পেতে শুরু করে। অধিকাংশ জরিপেই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসতে পারে বিজেপি।

পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে সরকার গঠনের জন্য ন্যূনতম ১৪৮টি আসন প্রয়োজন। বিভিন্ন বুথফেরত সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, বিজেপি ১৫০ আসনের বেশি পেতে পারে।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Arif Arman is a journalist associated with Zoom Bangla News, contributing to news editing and content development. With a strong understanding of digital journalism and editorial standards, he works to ensure accuracy, clarity, and reader engagement across published content.