ভারতের উত্তর প্রদেশের মীরাট জেলার হস্তিনাপুরে ২০ লাখ রুপির জীবনবিমার অর্থ হাতিয়ে নিতে স্বামীকে বিষধর সাপ দিয়ে হত্যা করার অভিযোগে এক নারী ও তার কথিত প্রেমিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, ৩০ বছর বয়সী দামিনি পাওয়ার তার কথিত প্রেমিক তুষার কুমারের (৩৪) সঙ্গে পরিকল্পনা করে স্বামী অতুল পাওয়ারকে (৩২) হত্যা করেন। তদন্তে জানা গেছে, প্রথমে অতুলকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়। এরপর তার গায়ের কম্বলের ভেতরে একটি বিষধর সাপ ছেড়ে দেওয়া হয়। সাপের কামড়ে অতুলের মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় দামিনি তাদের ছয় বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে অন্য একটি কক্ষে চলে যান।
প্রাথমিকভাবে দামিনি পুলিশকে জানান, শুক্রবার সকাল প্রায় ৬টার দিকে তিনি ঘরে ফিরে এসে অতুলকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। বিছানার ওপর একটি সাপ দেখতে পেয়ে তিনি চিৎকার শুরু করেন। পরে অতুলকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে বাড়ির ভেতরে পাওয়া সাপটিকে স্থানীয় লোকজন পিটিয়ে মেরে ফেলে।
মীরাটের সিনিয়র পুলিশ সুপার (এসএসপি) অবিনাশ পাণ্ডে জানান, সাত বছর আগে প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন দামিনি ও অতুল। প্রায় তিন মাস আগে তারা একটি প্লে-স্কুল চালু করেন। এরপর স্কুলভ্যানের চালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় তুষারকে। তদন্তে দেখা যায়, দামিনি ও তুষারের মধ্যে নিয়মিত ফোনে যোগাযোগ ছিল।
তিনি আরও জানান, তুষারের মোবাইল ফোনে একটি বাক্সে রাখা বিষধর সাপের ছবি পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে দুজনই হত্যার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশের দাবি, দামিনির অনুরোধে দুই সাপুড়ের কাছ থেকে ওই বিষধর সাপটি কেনা হয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল, অতুলের মৃত্যুর পর তার ২০ লাখ রুপির জীবনবিমার অর্থ দাবি করা হবে। এরপর তুষার তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দামিনিকে বিয়ে করবেন।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
এ ঘটনায় সাপ সরবরাহের অভিযোগে সোনু কুমার ও উদয় কুমার নামে আরও দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চারজনের বিরুদ্ধেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ১০৩(১) ধারায় (হত্যা) এবং ১২৩ ধারায় (বিষ, মাদক বা অচেতনকারী পদার্থ কিংবা অনুরূপ উপায়ে ক্ষতি সাধন) মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



