হঠাৎ করে বুকে ব্যথা শুরু হলেই বেশির ভাগ মানুষের মনে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়। সেই ভয় ও উৎকণ্ঠার মুহূর্তে অনেকেই এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, যা না করাই শ্রেয়। কেউ বুকের ব্যথাকে গ্যাসের সমস্যা ভেবে অবহেলা করেন, কেউ আবার চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ খেয়ে ফেলেন। আবার কেউ কেউ সাময়িক ব্যথা ভেবে বাড়িতেই বসে থাকেন। অথচ এই সাধারণ ভুলগুলোই যেকোনো সময় বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বুকে ব্যথা শুরু হলে অনেকেই কোনো রকম ভাবনাচিন্তা না করেই ইকো করাতে ছোটেন। ইকো বা ইকোকার্ডিয়োগ্রাফি হল এক ধরনের বিশেষ আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষা, যার মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের গঠনগত অবস্থা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে জানা যায়। চিকিৎসকদের মতে, ইকো নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, তবে কোন পরিস্থিতিতে ইকো করানো প্রয়োজন—তা জানা থাকাও জরুরি।
ইকোর মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডের গঠন, ইজেকশন ফ্র্যাকশন এবং হৃদযন্ত্র কতটা কার্যকরভাবে শরীরে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত পাম্প করতে পারছে—সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। পাশাপাশি হৃদযন্ত্রের ভাল্ভসংক্রান্ত সমস্যা শনাক্ত করা যায় এবং আগে হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকলে হৃদপেশির কোনো অংশ ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, সে বিষয়েও ইকোর রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়।
তবে শুধু ইকোর রিপোর্ট দেখে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি সম্পর্কে সরাসরি কোনো ধারণা পাওয়া যায় না। হৃদযন্ত্রের পেশিগুলোর স্বাভাবিক কাজের জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেন প্রয়োজন। যখন হৃদপেশিতে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায় এবং একই সঙ্গে এর চাহিদা বেড়ে যায়, তখনই তৈরি হয় বিপদজনক এক ভারসাম্যহীনতা, যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
এই ধরনের ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ সাধারণত ধরা পড়ে ইসিজি ও ট্রেডমিল টেস্টের মাধ্যমে। তাই বুকে কোনো রকম অস্বস্তি হলে এবং তা যদি হার্টজনিত বলে মনে হয়, সে ক্ষেত্রে ইকোর আগে ইসিজি ও ট্রেডমিল টেস্ট করানোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


