জাহিদ ইকবাল: জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি’র আহ্বায়ক ও জুলাই বিপ্লবের মহানায়ক নাহিদ ইসলাম তার একটি ফেসবুক পোস্টে নির্বাচনী প্রচারণার অভিজ্ঞতা, মানুষের ভালোবাসা এবং আন্দোলনের স্মৃতি তুলে ধরে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন।
তিনি লিখেছেন, নির্বাচন তার জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা, যেখানে প্রতিদিন মানুষের কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবং রাজনীতির বাস্তব রূপ নতুন করে দেখছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ফেসবুক পোস্টে নাহিদ ইসলাম আরো উল্লেখ করেন, প্রতিদিন ভোরে বের হয়ে সারাদিন রোদ, ধুলো ও ভিড়ের মধ্যে হেঁটে মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন, তাদের কথা শুনছেন, পথসভা করছেন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক স্থানে যাচ্ছেন। দিন শেষে ক্লান্ত শরীরে বাসায় ফিরলেও মানুষের আন্তরিকতা তাকে শক্তি দিচ্ছে। প্রচারণার পথে পাওয়া ছোট ছোট উপহার তার কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলেও জানান তিনি।
তিনি লেখেন, কেউ তাকে চকলেট দিচ্ছেন, কেউ আতর, কেউ হাতে বানানো শাপলা কলি। এক নারী তার স্ত্রীর জন্য নিজ হাতে তৈরি চুড়ি উপহার দিয়েছেন। অনেকে গোপনে পকেটে কিছু টাকা গুঁজে দিচ্ছেন। রাত শেষে পকেট ঝাড়লে পাওয়া যাচ্ছে টাকা ও নানা উপহার—যা তিনি মানুষের ভালোবাসার নীরব দলিল হিসেবে বর্ণনা করেন।
পোস্টে নাহিদ ইসলাম বলেন, ওসমান হাদীর প্রতি মানুষের যে গভীর ভালোবাসা রয়েছে, তার অংশীদার তারাও হচ্ছেন। মানুষ তাদের নিজের সন্তানের মতো দেখছেন এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সেই শূন্যতা এখনো মানুষের মনে রয়ে গেছে।
জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিও উঠে এসেছে তার লেখায়। বাড্ডা–রামপুরা অঞ্চলে ছাত্র–জনতার প্রতিরোধ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ভূমিকা, রামপুরা ব্রিজকেন্দ্রিক অবস্থান এবং সাধারণ মানুষের সহায়তার কথা তিনি স্মরণ করেন। দোকানদার, হকার, চা-ওয়ালা থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা আন্দোলনকারীদের আশ্রয় ও খাবার দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।
নাহিদ ইসলাম লেখেন, এখনো এলাকার বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসার দেয়ালে গুলির চিহ্ন দেখিয়ে মানুষ সেই সময়ের কথা মনে করিয়ে দেন। অনেক আহত আন্দোলনকারী ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক হুমকি, মামলা ও অর্থনৈতিক চাপে অনেক শহীদ পরিবার এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই গুলশান–বাড্ডা এলাকা থেকে পায়ে হেঁটে বনশ্রীর বাসায় যাচ্ছিলেন বাবা–মায়ের সঙ্গে দেখা করতে। সেদিনই এলাকায় গোলাগুলি শুরু হয় এবং তার বাসার সামনেই একজন গুলিতে নিহত হন। সেই রাতেই তিনি গুম হন এবং পরদিন কারফিউ জারি ছিল।
প্রচারণায় গিয়ে এলাকার নানা সমস্যা মানুষের মুখে শুনছেন বলেও তিনি লেখেন। গ্যাস সংকট, খেলার মাঠ ও ভালো ক্লিনিকের অভাব, সরকারি স্কুলের প্রয়োজন, জলাবদ্ধতা, তীব্র যানজট, নিরাপত্তাহীনতা ও প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ উঠে আসছে। কেউ চাকরি চান, কেউ চিকিৎসা সহায়তা, কেউ রাস্তা সংস্কার বা দখল হওয়া জমি উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছেন।
মানুষের রাজনৈতিক হতাশার বিষয়টিও তার পোস্টে স্থান পেয়েছে। তিনি বলেন, ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরে তা রক্ষা করা হয় না—এমন অভিযোগ বহু মানুষের মুখে। তবুও মানুষ আশাবাদী, কথা বলতে চায় এবং নতুন দিনের স্বপ্ন দেখে।
নিজের ব্যক্তিত্ব প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম লেখেন, প্রথম দেখায় আবেগ প্রকাশে তার কিছু জড়তা আছে এবং তিনি অভিনয় করতে পারেন না। তবে মানুষ যে ভালোবাসা দিচ্ছে, একই রকম দরদ তারও রয়েছে মানুষের প্রতি।
আরও পড়ুনঃ
ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হোক, মানুষের ভালোবাসা এবং নিজের এলাকাকে নতুন করে চেনার অভিজ্ঞতাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়ে থাকবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


