
রাজধানীর বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপি’টুনিতে নিহত তাছলিমা বেগমের মেয়ে সাবরিনা ইয়াসমীন মাহিরা তুবা থেকে থেকে এখন এ রকমই নানা প্রশ্ন করছে স্বজনদের। স্বজনদের পক্ষে এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কঠিন। তাঁরা সহজ যেটা সেটাই করছে—মুখ লুকিয়ে কাঁদছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে মহাখালীর বাসায় গিয়ে দেখা যায়, তুবাকে সবাই স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে। তুবার বড় বন্ধু এখন তার মামা সৈয়দ নাসির উদ্দিন টিটু। তিনি বলেন, “ওর কষ্ট আর সহ্য হচ্ছে না। কিভাবে এই ছোট্ট শিশুকে বোঝাব, ওর মা আর কখনো ফিরবে না। সারা দিন বাসার সবাই ওর ইচ্ছা পূরণে ব্যস্ত থাকে। তবু ওর মেজাজ ঠিক থাকছে না। সারাক্ষণ শুধু মাকেই খোঁজে। ওকে বোঝানোর জন্য আমাদের বলতে হচ্ছে, ‘তোমার মা নিচে গেছে, তোমার জন্য চিপস আনবে।’ কিন্তু তাতেও খুব একটা লাভ হয় না; পাল্টা বলে বসে, ‘তাহলে মাকে ফোন দাও।’ এরপর বায়না ধরে, ‘ফোনটা আমাকে দাও, আমি মায়ের সঙ্গে কথা বলব।’”
গত রাতে ওই বাসায় গিয়ে দেখা যায়, বড় ভাই তাহসীন আল মাহিরের সঙ্গে তুবা এ-ঘরে ও-ঘরে যাচ্ছে। নাসির উদ্দিন টিটু বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাছলিমার দুই সন্তানকে আমাদের কাছে রেখে পড়াশোনা করাব।’
এদিকে তাছলিমা বেগমের লাশ লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সোনাপুরে গ্রামের বাড়িতে দা’ফন করা হয়েছে। মায়ের দা’ফন সম্পন্ন করে তুবা ও তাহসিন মহাখালীতে নানির বাসায় রয়েছে। স্বামীর সঙ্গে বিরোধের পর থেকে তুবা ও তার মা এ বাড়িতেই থাকতেন। তাছলিমার পরিবারের সদস্যরা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছেন না, নিরপরাধ একজন মানুষকে কেউ এভাবে পি’টিয়ে মে’রে ফেলতে পারে। মেয়ের এমন মৃ’ত্যু মেনে নিতে না পেরে মা সবুরা খাতুন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাছলিমা বেগমের মৃ’ত্যুর ঘটনায় বাড্ডা থানায় মামলা করেন নাসির উদ্দিন টিটু। এ মামলায় গতকাল পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সূত্র : কালেরকণ্ঠ
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



