Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন মার্কিন ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আলোচিত-সমালোচিত হয়েছে। নির্বাচনটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড জে ট্রাম্প। ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি উগ্র স্বভাবের একজন মানুষ।

গত ৩ নভেম্বর ৫৯তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে পপুলার ভোট ও ইলেকটোরাল কলেজ ভোটে পরাজিত হলেও হার মেনে নেননি রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ট্রাম্প। তিনি হার না মানলেও ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইতিহাসে নিজের নাম লেখাতে যাচ্ছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

নিয়মানুযায়ী ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি বাইডেন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন।
মার্কিন ইতিহাসে ১০ জন প্রেসিডেন্ট টানা দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হতে পারেননি। ট্রাম্প নির্বাচনে হেরে সেই তালিকায় নিজের নাম লেখাতে চলেছেন।

মার্কিন সরকারের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী, ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি হিসেবে পরবর্তী প্রশাসনকে সব সহযোগিতা প্রদানের কথা। এজন্য ১০ মিলিয়ন ডলার আলাদাভাবে সংরক্ষিত রয়েছে। সেই তহবিলে অনুমোদন দিলেও নির্বাচনে তিনি পরাজয় মেনে নেননি।

নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে জাল ভোটের অভিযোগ তোলেন ট্রাম্প। সুইং স্টেটগুলোতে বিরোধী জো বাইডেনের কাছে স্পষ্ট ব্যবধানে হেরেছেন তিনি। নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম-কারচুপি হয়েছে দাবি করে তার মামলাগুলোও প্রায় সব নাকচ হয়ে গেছে।

এমনকি সম্প্রতি তার দাবি অমূলক অভিহিত করে উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্টও। সর্বশেষ বাইডেনের পক্ষেই পড়েছে ইলেকটোরাল কলেজের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট। যার মধ্য দিয়ে অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গেছে তার পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়া।

৬ জানুয়ারিতে শেষ ভরসা ট্রাম্পের

এত কিছুর পর এখনও পরাজয় মেনে নেননি ট্রাম্প। তার চোখ এখন আগামী ৬ জানুয়ারির দিকেই। এটাই তার শেষ ভরসা। নির্বাচনের ফল উল্টে তার পক্ষে নিয়ে আসতে এদিনই মার্কিন কংগ্রেসের ইলেকটোরাল কলেজের ফলাফল ট্যালি ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের একাংশ।

সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে ট্রাম্পশিবির। তবে বিষয়টা ট্রাম্পের জন্য খুব একটা সুবিধার হবে না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

ট্রাম্পের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও অনুগতদের একটি দল এখনও মনে করছেন, ট্রাম্পের রাজনীতিতে টিকে যাওয়া এবং হোয়াইট হাউসে আরও চার বছর থেকে যাওয়ার আর একটিমাত্র পথই অবশিষ্ট আছে।

কী ঘটতে যাচ্ছে ৬ জানুয়ারি? ইলেকটোরাল কলেজের ভোটের যে ফল জানা গেছে সেটা এখনও ‘আনুষ্ঠানিক’ ফল নয়। এ ভোটের ফল এখন পাঠানো হবে ফেডারেল রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে।

আগামী ৬ জানুয়ারি ইলেকটোরাল ভোট আনুষ্ঠানিকভাবে গণনা করা হবে কংগ্রেসের এক যৌথ অধিবেশনে। এতে সভাপতিত্ব করবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ও আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ৬ জানুয়ারির ঘটনাবলী হয়ত ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোটের ফল বদলে দেয়ার ক্ষেত্রে ‘শেষ সুযোগ’ এনে দিতে পারে। এমন একটি প্রয়াস নিচ্ছেন কয়েকজন সিনেটর ও কংগ্রেস সদস্য।

তারা অ্যারিজোনা, পেনসিলভানিয়া, নেভাদা, জর্জিয়া ও উইসকন্সিন- এ রাজ্যগুলোতে অবৈধ ভোট ও জালিয়াতির লিখিত অভিযোগ জমা দেবেন; যাতে অন্তত একজন সিনেটরের স্বাক্ষর থাকবে।

এর লক্ষ্য হবে ওই রাজ্যগুলোর ভোট ‘ডিসকোয়ালিফাই’ বা বাতিল করা। আলাবামা রাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর ব্রুক্স তাদের একজন। তিনি দাবি করছেন, মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী সেদিন সুপ্রিম কোর্টসহ যে কোনো আদালতের বিচারকের চেয়ে বড় ভূমিকা রয়েছে কংগ্রেস সদস্যদের। আমরা যা বলব তাই হবে- সেটাই চূড়ান্ত।

এ ধরনের অভিযোগ উঠলে এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ফলাফল প্রত্যয়ন করতে অস্বীকার করলে কী হবে- তা নিয়ে মার্কিন বিশ্লেষকরা নানারকম চিত্র তুলে ধরছেন। ব্রুক্স বলছেন, আমার এক নম্বর লক্ষ্য হল আমেরিকার ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনী ব্যবস্থা- যা ভোটার জালিয়াতি বা ভোট চুরিকে খুব সহজে মেনে নিচ্ছে, তা মেরামত করা। আর এটা থেকে একটা বোনাস মিলে যেতে পারে যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইলেকটোরাল ভোটে আনুষ্ঠানিকভাবে জিতে গেলেন।

কারণ আপনি যদি অবৈধ ভোটগুলো বাদ দেন এবং যোগ্য আমেরিকান নাগরিকদের আইনসঙ্গত ভোটগুলোই শুধু গণনা করেন, তাহলে তিনিই জিতেছেন।

কিন্তু বাস্তবে এ রকম কোনো প্রক্রিয়া হবে জটিল এবং দীর্ঘ। প্রতিটি অভিযোগ নিয়ে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই ঘণ্টাব্যাপী বিতর্ক ও ভোটাভুটি হতে হবে।

সবশেষ মার্কিন নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে আফগানিস্তানের সঙ্গেও তুলনা করেন ট্রাম্প। জো বাইডেনকে ভুয়া প্রেসিডেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি টুইটে লেখেন- ‘এক তরুণ সেনাসদস্য আমাকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ২০২০ সালের নির্বাচনের চেয়ে আফগানিস্তানে অনেক ভালো নির্বাচন হয়। আমাদের (নির্বাচনে) মিলিয়ন মিলিয়ন ই-মেইল ব্যালটে দুর্নীতি হয়েছে, এমন নির্বাচন তৃতীয় বিশ্বে হয়। ভুয়া প্রেসিডেন্ট!’

২৫০ বছরের মার্কিন গণতন্ত্রে ২০২০ সালে জটিল সময় পার করছেন মার্কিনিরা। ফলাফলের পরেও তা মেনে না নেয়ায় ট্রাম্প নাটকে বিব্রত দেশটির নাগরিকরা।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Saiful Islam is a journalist at Zoom Bangla News with seven years of experience in news writing and editorial work. He contributes to producing accurate, well-structured, and reader-focused content across digital platforms. His work reflects a strong commitment to editorial standards and responsible journalism.