
মুম্বইয়ের পশ্চিম, পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত এই তিনটি এলাকায় বসবাস করেন প্রায় ১৫ লাখ মানুষ। জরিপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা বিবিসিকে বলেছেন, ভারতের সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত এলাকায় কি পরিমাণ মানুষ করোনার মুখে এই জরিপ তাই বলে দিচ্ছে। বস্তি এলাকায় আগে যে হারে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন বলে মনে করা হয়েছিল, এই জরিপ দেখিয়ে দিয়েছে তার চেয়ে অনেক দ্রুততার সঙ্গে বিস্তার ঘটছে করোনার। মুম্বইয়ের বস্তিগুলোতে বসবাস করেন এই শহরের এক কোটি ২৫ লাখ মানুষের অর্ধেকেরও বেশি। এসব বস্তিতে উচ্চহারে করোনা সংক্রমণের কারণ হতে পারে টয়লেট শেয়ার করা। কারণ, বস্তিতে একই টয়লেট ব্যবহার করেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। টাটা ইনস্টিটিউট অব ফান্ডামেন্টাল রিসার্সের ড. সন্দ্বীপ জুনেজা বলেছেন, এই জরিপের ফল বলে দিচ্ছে করোনা সংক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে মানুষের গাদাগাদি করে অবস্থান। এতে আরো দেখা গেছে, আক্রান্তদের বড় একটি অংশ কোনো লক্ষণ না দেখিয়েই আক্রান্ত হচ্ছেন এবং সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে সেখানে মৃত্যুর হার কম। সেখানে মৃত্যুর হার হাজারে একজন বা দু’হাজারে একজন। শহরে করোনায় মৃত্যুহারের চেয়ে এই হার অনেক কম। অনেক নারী বস্তি থেকে অথবা বস্তির বাইরে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। টাটা ইনস্টিটিউট অব ফান্ডামেন্টাল রিসার্সের ড. উল্লাস এস কোলঠুর বলেন, এটা খুব আগ্রহোদ্দীপক ব্যাপার। এর কারণ জানি না আমরা। এর কারণ হতে পারে সামাজিক আচরণ থেকে শারীরিক দূরত্বের সঙ্গে জড়িত বিষয়। মুম্বইয়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসার প্রেক্ষাপটে এই জরিপ নতুন প্রশ্ন তুলেছে, মুম্বই কি করোনা সংক্রমণে ইমিউনিটির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মঙ্গলবার সেখানে করোনায় নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৭১৭। তিন মাসের মধ্যে এটাই সেখানে সবচেয়ে কম সংখ্যক সংক্রমণ। সংক্রমণ বেড়েছে নাকি কমেছে তা বোঝার জন্য আগস্টে ওই তিনটি বস্তি এলাকায় আবার জরিপ করা হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



