রাজধানীর ঢাকার কাঁচাবাজারে শীতের পূর্ণ আমেজ দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘ সময়ের চড়া দাম কমে এখন অধিকাংশ সবজির দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে নেমে এসেছে। শীতের মৌসুমে সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ বাড়ায় বাজারে স্বস্তি ফিরলেও টমেটো ও বেগুনের দাম এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, কুমড়া, পালং শাকসহ নানা ধরনের শীতকালীন সবজি তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে টমেটো কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং বেগুন ৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
খিলক্ষেতে সবজি কিনতে আসা রাশেদ খান বলেন, ‘আগে বাজারে এলেই দামের কথা ভেবে চিন্তায় পড়তে হতো। এখন বেশিরভাগ সবজির দাম সহনীয়। পরিবারে সবাই মিলে খাওয়ার জন্য ব্যাগ ভরে সবজি কিনতে পারছি। শুধু টমেটো আর বেগুনের দামটা একটু বেশি।’
জেসমিন আরা বলেন, ‘শীতের মৌসুমে সাধারণত সবজির দাম কম থাকে। এবারও সেই সুবিধা পাচ্ছি। ৫০-৬০ টাকায় ভালো মানের সবজি পাওয়া যাচ্ছে, এটা আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য অনেক স্বস্তির খবর।’
বিক্রেতাদের দাবি, ঢাকার বাইরে থেকে সবজি আসছে কম। তীব্র শীতে কৃষকরা ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। ক্ষেত থেকে সময় ও চাহিদা অনুযায়ী সবজি তুলতে পারছে না। যার প্রভাব পড়েছে সবজি সরবরাহে। তবে সেটিও দু-একদিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে।
সবজি বিক্রেতা শহিদুল জানান, এখন শীতকালীন সবজির ভরা মৌসুম। প্রতিদিনই মোকাম থেকে বেশি পরিমাণ সবজি আসছে। তাই দাম কম রাখা সম্ভব হচ্ছে। টমেটো আর বেগুনের দাম বেশি কারণ এই দুটার চাহিদা বেশি, কিন্তু সরবরাহ তুলনামূলক কম।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় শীতের পুরো মৌসুমজুড়েই সবজির বাজার স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে ভোক্তারা যেমন স্বস্তি পাচ্ছেন, তেমনি ন্যায্য দামে বিক্রি হওয়ায় কৃষকরাও লাভবান হচ্ছেন।
প্রতি ডজন ফার্মের বাদামি রঙের ডিম ১০৫-১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লারের কেজি ১৫৫ থেকে ১৬৫ টাকা আর সোনালি জাতের মুরগির কেজি কেনা যাচ্ছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায়। প্রতিকেজি গরুর মাংস মিলছে ৭৫০-৮০০ টাকায়।
প্রতিকেজি পাঙাশ ১৭০-২০০ টাকায়, পাবদা ৪০০-৫৩০ টাকায়, কৈ মাচ ২৫০-৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিকেজি রুই ৩২০-৪২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২৮০ টাকা, কাতলা ৩৪০-৪৪০ টাকা, শিং ৩৪০-৬৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


