স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন রুমিন ফারহানা। এই আসনে বিএনপি জোট থেকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা জুনায়েদ আল হাবিবকে মনোনয়ন দেওয়া হলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের ঘোষণা দেন রুমিন ফারহানা, পরে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার দায়ে তাঁকে বহিষ্কার করে বিএনপি।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাঁস প্রতীক নিয়ে তাঁর আসনে বিজয়ী হওয়ার পর আজ সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে এক প্রশ্নের জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, বিএনপি এখন আর তাঁর দল নয়, এটা তারেক রহমানের দল। সরকার গঠন করতে যাওয়া বিএনপির কাছে তাঁর প্রত্যাশা কী, তা নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। গতকাল কিছু কিছু জায়গায় জায়গায় নির্বাচনে বিএনপির কর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কথা টেনে রুমিন ফারহানা বলেছেন, বিএনপির মধ্যে এখনই গত ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের ছায়া দেখা যাচ্ছে।
এর বাইরে দল হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া জামায়াতে ইসলামী সংসদে না যাওয়ার গুঞ্জন নিয়েও কথা বলেছেন রুমিন ফারহানা।
তাঁর দল নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমার দল তো আমাকে বহিষ্কারই করে দিয়েছে। আমার দল বলে তো আর কিছু না। এটা তারেক রহমান সাহেবের দল। উনি তো আমাকে বহিষ্কার করে দিয়েছেন।’ দলগতভাবে বিএনপিকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তাঁর উত্তর, ‘কী কারণে? আমি তো অভিনন্দন জানালাম। ধন্যবাদ জানাব কী কারণে?’
অভিমান পাশে সরিয়ে বিএনপিতে আবার ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি আপনাকে একটা কথা বলি। অভিমান শব্দ…যেটি অত্যন্ত দামি। এটা ভীষণ আপন মানুষ ছাড়া অভিমান হয় না। বিরক্তি থাকতে পারে, অসন্তুষ্ট থাকতে পারে, অভিমান কেন থাকবে? অভিমান খুব দামি শব্দ, এটা যেখানে সেখানে ব্যবহার করা যায় না।’
সঙ্গে যোগ করেন, ‘…আর দলের ব্যাপারে আমার যেটা… হ্যাঁ দলের আন্দোলন ছিল, সংগ্রাম ছিল, ভোটের অধিকারের জন্য… আমাদের একটা ফ্রি ফেয়ার ইলেকশনের জন্য… সার্টেইনলি সে আন্দোলনে আমি শরিক ছিলাম। কিন্তু একই সঙ্গে দলের ১৮ মাসের কার্যক্রমে আমরা দেখেছি কী করে মানুষের কাছ থেকে পয়সা আদায় করা যায়, কী করে জুলুম করা যায়, কী করে জমি দখল করা যায়, ব্যবসা দখল করা যায়, বালুর ব্যবসা করা যায়, কী করে দুর্নীতি করে পয়সা কামানো যায়, কী করে র্যানস্যাকিং করা যায়, তদবিরবাজি করা যায়, কী করে চাঁদাবাজি করা যায়… এখন আপনি কি বলতে চান আমি ওগুলোরও সঙ্গী হব? তা তো নয় নিশ্চয়ই! সিম্পল! আমার রাজনীতি আমার, দলের রাজনীতি দলের।’
বিএনপি সরকার গঠন করার পর তাদের কাছে কী আশা থাকবে, এ প্রশ্নের উত্তরে রুমিন ফারহানা বলেছেন, ‘আমি আশা করব তারা ২০০১ থেকে ২০০৬-এ যে ভুলগুলো করেছে, তার রিপিটেশন তাদের হবে না। গত দেড় বছর তারা মানুষের উপরে যেইরকম একটা… মানে নানান রকমভাবে মানুষকে তারা বিরক্ত করেছে, সেইটার পুনরাবৃত্তি হবে না। এটুকুই আমার আশা থাকবে। এবং যেই ভোটের… ফেয়ার ভোটের জন্য তাদের এত লড়াই সংগ্রাম ১৭ বছরের, গতকালকের ইলেকশনেও তো তা… বিভিন্ন জায়গায় তাদের আচার আচরণ খুব ভালো ছিল না। আওয়ামী লীগের ছায়া তো কিছু কিছু এখনই দেখতে পাচ্ছি। আশা করব এগুলো কম হবে, থাকবে না।’
বিএনপি তাঁকে মন্ত্রীত্বের প্রস্তাব করলে কী করবেন, এ প্রশ্নের উত্তরে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আগে দিক, আমি দেখি।’
এসবের বাইরে রুমিন ফারহানার কাছে প্রশ্ন হয়েছে গতকাল থেকে চাউর হয়ে যাওয়া এক গুঞ্জন নিয়ে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন জেতা দল জামায়াতে ইসলামী সংসদে যাবে না বলে একটা গুঞ্জন চলছে। সেটা সত্যি হলে তা গণতন্ত্রের জন্য কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা হবে কি না, এ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে রুমিন ফারহানা বলেছেন, ‘নিশ্চিতভাবেই হবে। এই কারণেই যে, আমাদের তো এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে আমরা নির্বাচনটা করলাম। এবং আওয়ামী লীগ সহ… আরো যেই বাম দলগুলো আছে তারা কিন্তু কেউ এই মুহূর্তে নির্বাচনে… সংসদে নাই। তাহলে… আমি জানি না… জাতীয় পার্টি কয়টা আসন (পেয়েছে) এটাও আমি ঠিক জানিনা। শূন্য সম্ভবত। তো, তাই যদি হয়ে থাকে, তাহলে আসলে বিরোধী দলে তো থাকতে হবে কাউকে না কাউকে। সেক্ষেত্রে সেটা কীভাবে হবে এটাও তো একটা বড় প্রশ্ন। দেখা যাক সময় বলবে।’
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


