রমজানের শেষ দশক এলেই মুসলিম সমাজে শবে কদর বা লাইলাতুল কদর নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী এই রাত বছরের শ্রেষ্ঠ রাত, যার ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম বলে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে ঠিক কোন রাতটি লাইলাতুল কদর, তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। হাদিসে মুসলমানদের রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে এই রাত খুঁজে নিতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশসহ বিভিন্ন মুসলিম সমাজে এই রাত ঘিরে বহু প্রচলিত ধারণা রয়েছে। অনেক পুস্তিকা বা প্রচারপত্রে শবে কদরের জন্য বিশেষ নামাজ, নির্দিষ্ট সংখ্যক রাকাত বা নির্দিষ্ট সূরা নির্দিষ্ট সংখ্যকবার পড়ার নিয়ম উল্লেখ করা হয়। কিন্তু ধর্মীয় আলেমরা বলছেন, এসব বিষয়ে কোরআন ও হাদিসে নির্দিষ্ট কোনো পদ্ধতির উল্লেখ নেই।
রাজধানীর জামিয়া ইকরা প্রতিষ্ঠানের ফাজিল মুফতি ইয়াহইয়া শহিদের বক্তব্য অনুযায়ী, শবে কদর কিংবা শবে বরাতের জন্য আলাদা কোনো নির্ধারিত নামাজের নিয়ম ইসলামের মৌলিক সূত্রে পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, সাধারণ নফল নামাজ যেভাবে আদায় করা হয়, সেভাবেই দুই রাকাত করে যত রাকাত সম্ভব পড়া যেতে পারে। সূরা ফাতিহার পর যে কোনো সূরা পড়ে নামাজ আদায় করা যাবে।
নফল ইবাদত, কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়াতেই মূল গুরুত্ব
আলেমদের মতে, শবে কদরের মূল গুরুত্ব নির্দিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক নিয়মে নয়, বরং বেশি বেশি নফল ইবাদতে। এই রাতে কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার, ইস্তেগফার এবং ব্যক্তিগত দোয়া করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
হাদিসে বর্ণিত একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। আয়েশা (রা.) একবার রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, যদি তিনি লাইলাতুল কদর পান, তাহলে কী দোয়া পড়বেন। উত্তরে রাসুল (সা.) তাকে এই দোয়াটি পড়তে বলেছেন:
“আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউয়্যুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নী”
অর্থাৎ, “হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল এবং ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন।”
এছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে নামাজ পড়া, রুকু ও সিজদায় সময় নেওয়া এবং ধীরস্থিরভাবে ইবাদত করার কথাও আলেমরা উল্লেখ করেন। এতে ইবাদতের গভীরতা ও মনোযোগ বাড়ে বলে মনে করা হয়।
আরও একটি বিষয় নিয়ে আলেমদের মতামত হলো, শবে কদরের নফল আমলগুলো মূলত ব্যক্তিগতভাবে করা উত্তম। ফরজ নামাজ অবশ্যই জামাতে আদায় করা উচিত। তবে অতিরিক্ত নফল ইবাদত ঘরে একাকী করার কথাই অনেক আলেম উল্লেখ করেছেন।
ধর্মীয় গ্রন্থে এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই যে শবে কদরের জন্য মসজিদে দলবদ্ধভাবে বিশেষ নফল নামাজের আয়োজন করতে হবে। তবে কেউ ব্যক্তিগতভাবে মসজিদে এসে ইবাদত করলে তাতেও বাধা নেই, শর্ত হলো তা যেন অন্যের ইবাদতে ব্যাঘাত সৃষ্টি না করে।
রমজানের শেষ দশকের এই রাত মুসলমানদের কাছে মূলত আত্মসমালোচনা, ক্ষমা প্রার্থনা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি বিশেষ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়। নির্দিষ্ট রীতি নয়, বরং আন্তরিকতা ও বেশি ইবাদতই এই রাতের প্রধান শিক্ষা বলে মনে করেন অনেক আলেম।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



