
দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (১৩ জুন) তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারে অনুষ্ঠিত প্রায় ৫০০ জনের সমাবেশে বক্তারা নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে বলেন, তিনি আইন অনুযায়ী স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করতে চান না।
হামলায় অপহৃত হয়ে গাজায় নিহত হওয়া ৮০ বছর বয়সী ইয়োরাম মেটজগারের পুত্রবধূ আয়ালা মেটজগার বলেন, সময় যত যাচ্ছে, প্রশ্ন ততই বাড়ছে। আইন অনুযায়ী গঠিত রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন ইসরায়েলের সর্বোচ্চ অনুসন্ধানী কর্তৃপক্ষ। এতে প্রধান বিচারপতির নিয়োগ দেওয়া স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা থাকেন। কিন্তু নেতানিয়াহুর প্রস্তাবিত তদন্ত কমিটি রাজনীতিবিদদের মাধ্যমে নির্বাচিত হবে।
আয়ালা মেটজগারের ভাষায়, এই রাজনৈতিক, জনতুষ্টিবাদী ও ফ্যাসিবাদী তদন্ত কমিটিতে তিনজন জোট সরকারের প্রতিনিধি ও তিনজন বিরোধী দলের প্রতিনিধি থাকবে। যদি বিরোধী পক্ষের সদস্যরা এই বিকৃত প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান, তাহলে জোট সরকারের তিন সদস্যই কমিটি পরিচালনা করবেন ও নিজেরাই নিজেদের অপরাধ তদন্ত করবেন।
এদিকে হামাসের হামলায় নোভা সঙ্গীত উৎসবে নিহত হওয়া ২৬ বছর বয়সী ওরিয়া লিটম্যানের বাবা এরান লিটম্যান বলেন, তার মেয়ে ‘ধর্মীয় যুদ্ধের কারণে’ নিহত হয়েছেন। তার দাবি, হামাসের নিহত নেতা ইয়াহইয়া সিনওয়ারের রেখে যাওয়া চিঠিগুলো থেকে বোঝা যায়, ইহুদি উগ্রপন্থিদের হাতে মুসলিম পবিত্র স্থানগুলোর ক্ষতি এই অন্তহীন যুদ্ধের সূচনা করেছে।
বক্তব্যে লিটম্যান বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা এড়িয়ে যাওয়া ইয়েশিভা শিক্ষার্থীদের সুবিধা সাধারণ সেনাসেবায় অংশ নেওয়া নাগরিকদের সমান করার উদ্যোগেরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আমাকে কখনো বলবেন না যে তোরাহ অধ্যয়ন আমাদের রক্ষা করে।
তিনি আরও বলেন, কেউ যদি আমার সামনে এমন কথা বলে, তাহলে আমি তাকে আমার মেয়ে ওরিয়ার কাছে পাঠিয়ে দেব, যেন তিনি গিয়ে ওকেই এ কথা বলে। আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার ভেতরের আগুন নরকের আগুনের চেয়েও বেশি জ্বলছে।
এদিকে, সমাবেশ চলাকালে সরকারপন্থি কর্মী হাদার মুখতার বিক্ষোভস্থলে এসে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে উত্তেজনা তৈরি হয়। এক সরকারবিরোধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকর্মী তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে প্রবেশ করে। পরে দুজনকে আলাদা করে তাদের বক্তব্য শোনার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



