“এর মধ্যে আমি সিনেমায় অভিনয়ে ফেরার ব্যাপারে নানা মাধ্যমে প্রস্তাব পেয়েছি, খবরও পেয়েছি—আমাকে নিয়ে অনেকেই সিনেমা নির্মাণ করতে চান। কিন্তু আমি আর সিনেমায় অভিনয় করতে চাই না। আমি আমার স্বামী এবং একমাত্র সন্তান আয়াতকে নিয়েই সময় কাটাতে চাই। সুখী একটা দাম্পত্য জীবনের মাঝেই আমি আমার জীবনটা পার করে দিতে চাই। তবে কেউ যদি আমার জীবন নিয়ে কোনো বায়োপিক করতে চান, তবে অবশ্যই আমি তাতে অভিনয় করব।”

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনয়ে ফেরা প্রসঙ্গে এভাবেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিকা পারভীন পপি। দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় থেকে দূরে থাকা তিনবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী জানিয়েছেন, সাধারণ কোনো সিনেমা, নাটক বা বিজ্ঞাপনে আর কাজ করতে চান না। তবে নিজের জীবনভিত্তিক মানসম্মত কোনো বায়োপিক নির্মিত হলে সেখানে অভিনয় করতে আগ্রহী তিনি।
পপি বলেন, “আমার একদম জন্ম থেকে শুরু করে বেড়ে ওঠা, আমার পড়াশোনা, আমার ফটোসুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ, আমার ব্যক্তিগত জীবন, আমার সংগ্রামী জীবন, আমার চলচ্চিত্র জীবনসহ আরো নানা কিছু খুঁটিনাটি সব সুন্দরভাবে একটি চমৎকার গল্পে আমার মনের মতো করে যিনি তুলে ধরতে পারবেন, আমি তারই নির্দেশনায় অভিনয় করব। যদি ভালো না লাগে, তাহলে আমি আর অভিনয়ে ফিরতে চাই না। অর্থাৎ কোনো রকম একটা বায়োপিক হবে, এমনটাতে আমি অভিনয় করতে চাই না।”
পপির ভাষ্য, “একটা সময় চলচ্চিত্রে মৌসুমী আপু-শাবনূরের ব্যাপক দাপট ছিল, এমন দাপুটে সময় আমিও পার করেছি, পূর্ণিমাও পার করেছে। আমাদের ভক্তরা এখনো আমাদের নিয়ে গর্ব করে। তাই যদি বায়োপিকে অভিনয় করি, সেটা যেন দৃষ্টান্তমূলক কোনো বায়োপিক হয়—এমনটাই প্রত্যাশা থাকবে আমার।”
গুণী নির্মাতা মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘কুলি’ সিনেমায় চিত্রনায়ক ওমর সানীর বিপরীতে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে পপির। প্রথম সিনেমাতেই তিনি দর্শকের নজর কাড়েন। এরপর একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়ে নব্বই দশক ও পরবর্তী সময়ে ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকায় পরিণত হন।
সর্বশেষ সাদেক সিদ্দিকী পরিচালিত ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন পপি। এরপর আর নতুন কোনো সিনেমায় তাকে দেখা যায়নি।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
অভিনয় জীবনে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন এই অভিনেত্রী। ২০০৩ সালে কালাম কায়সার পরিচালিত ‘কারাগার’ সিনেমার জন্য প্রথমবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। পরে নারগিস আক্তার পরিচালিত ‘মেঘের কোলে রোদ’ এবং সৈয়দ ওয়াহিদুজ্জামান ডায়মন্ড পরিচালিত ‘গঙ্গাযাত্রা’ সিনেমার জন্যও একই সম্মান অর্জন করেন। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন সংগঠন থেকে তিন শতাধিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



