জুমবাংলা ডেস্ক : ‘স্যার আমার অমতে আমার পরিবার জোর করে বিয়ে দিচ্ছে, আমি আরও পড়ালেখা করতে চাই, আমাকে ঝরে যেতে দেবেন না’ বলে ফোন দিয়ে জানান শিবচরের সরকারি বরহামগঞ্জ কলেজে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী।
আর এ ঘটনা শোনার সাথে সাথে রবিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে ওই ছাত্রীকে উদ্বার করে তার দাদীর ঘরে ঠাই করে দেন শিবচর থানার ওসি।
জানা যায়, শিবচরের বরহামগঞ্জ কলেজের স্নাতক (পাশ) প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত ওই শিক্ষার্থীর বাবা-মা তার অমতে উপজেলার বাশকান্দি এলাকার এক প্রবাসীর সঙ্গে বিয়ে ঠিক করেন। মেয়েটি বিয়েতে রাজি না হওয়ায় কয়েকদিন ধরেই তার বাবা-মা তার উপর শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন করে আসছে।
রবিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে মেয়েটি তার বাবা-মায়ের অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে তার স্কুল শিক্ষক বড় চাচার ঘরে আশ্রয় নিতে যান। সেখানেও তার বাবা-মা তাকে মারধর করার চেষ্টা চালায়। এসময় মেয়েটি ফোন থেকে শিবচর থানার ওসিকে বিষয়টি জানান।
পরে শিবচর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মেয়েটির বাড়ি গিয়ে উপস্থিত সকলের সাথে আলাপ করেন।
এরপর ওসি আবুল কালাম আজাদ মেয়ের বাবা-মায়ের উদ্দেশে বলেন, আপনারা যদি মেয়েকে জোর করে বিয়ে দেন তাহলে আপনাদের জেলে পাঠানো হবে।
এ ব্যাপারে মেয়েটির চাচা জানান, আমার এই ভাতীজি সবে মাত্র ডিগ্রির প্রথম বর্ষে পড়ে। সে খুবই মেধাবী। আমার জানামতে তার বাবা-মা জোর করে বিয়ে দিতে চাচ্ছে। এই বিয়ের বিষয়ে আমার কোনও সম্পৃক্ততা নেই। আমি প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।
পরে মেয়েটির বাবা তার ভুল বুঝে উপস্থিত সকলের সামনে মেয়ের অমতে তাকে বিয়ে না দেওয়ার কথা জানান।
এ ব্যাপারে শিবচর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঘটনাটি ফোনে আমাকে জানালে রাতেই আমি মেয়েটির বাড়ি যাই। তার অবিভাবকদের এ বিষয় সম্পর্কে সচেতন করি। এছাড়া মেয়েটিকে তার দাদীর জিম্মায় দিয়ে আসি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


