লাইফস্টাইল ডেস্ক: প্রতিবছর ২ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে ‘ওয়ার্ল্ড কোকোনাট ডে’ পালিত হয়। এশিয়ান অ্যান্ড প্যাসিফিক কোকোনাট কমিউনিটির তরফ থেকে ২ সেপ্টেম্বর দিনটিকে ‘কোকোনাট ডে’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ওয়ার্ল্ড কোকোনাট ডে ২০২০ এর উদ্দেশ্য হল, নারিকেল শিল্পের উন্নয়ন করা।
এছাড়াও, এই দিবসের উদ্দেশ্য হল মানুষের মধ্যে নারকেলের গুরুত্ব নিয়ে সচেতনতা গড়ে তোলা। এই বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে ওয়ার্ল্ড কোকোনাট ডে-এর থিম হল, “Put resources into Coconut to spare the world”.
আজ থেকে প্রায় কয়েকশো লক্ষ বছর আগে কোকোস জাইলেনিকা নামে ছোট্ট বাদামের মতো দেখতে মাত্র ৩.৫ সেন্টিমিটার লম্বা একটি ফল ছিল। বিজ্ঞানীরা এই ফলের ফসিলকে(বাতিল হয়ে যাওয়া অংশ) নিয়ে বিভিন্ন গবেষণার পর প্রমাণ করেছেন, এটিই নাকি নারিকেলের পূর্বপুরুষ।
নারিকেল এমন একটি ফল, যা পৃথিবীর সমস্ত প্রান্তের মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয়। এই গাছের কাঠ থেকে শুরু করে, পাতা, নারিকেলের ছোবড়া, পানি, দুধ, মালা, সবটাই ব্যবহৃত হয় কোনও না কোনও কাজে।
তাই অর্থনীতিতে নারিকেলের ভূমিকা যে অসীম তা কিন্তু অস্বীকার করা যায় না। এছাড়াও এতে থাকা প্রোটিন উপাদানগুলো আমাদের শরীরের জন্যও খুবই উপকারি। তবে চলুন বিশ্ব নারিকেল দিবসে জেনে নিন নারিকেলের নানান স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে।
১) ওজন কমাতে সাহায্য করে
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে নারিকেলের ভূমিকা অপরিসীম। নারিকেলে রয়েছে মিডিয়াম- চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড, যা কেবলমাত্র ওজন কমানোর পাশাপাশি বিপাকীয় ক্রিয়াকে বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।
২) ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে
নারিকেলে থাকা লরিক অ্যাসিড(lauric Acid) শরীরের মধ্যে মনোলরিন (Monolaurin) নামে একটি পদার্থ গঠন করে। যা ছত্রাক, ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।
৩) দাঁত এবং হাড়কে মজবুত করে
নারিকেল মজবুত দাঁত এবং হাড়ের গঠনে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি দাঁতের বিভিন্ন রোগ থেকে বাঁচাতেও সহায়তা করে। অস্টিওপোরোসিসের মত হাড়ের অসুখ যা হারকে ভঙ্গুর এবং পাতলা করে দেয়, তা রোধ করতেও নারিকেলের অপরিসীম।
৪) হাটের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি
একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা প্রতিদিন নারিকেল এবং নারিকেলের তেল খান তাদের মধ্যে অন্যান্য লোকেদের তুলনায় হৃদরোগের হার অনেকটাই কম। পাশাপাশি নারিকেল তেল কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতেও সাহায্য করে।
তাই হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য আমাদের রোজ নারিকেল বা নারিকেল তেল খাওয়া উচিত।
৫) রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে
নারিকেলে শর্করার মাত্রা কম থাকে এবং ফাইবারের মাত্রা বেশি থাকে, যার কারণে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ রেখে ডায়াবেটিসকে দূর করতে সাহায্য করে।
তথ্যসূত্র: বোল্ড স্কাই।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।