২০২৬ সালে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা ও মানবজাতির সঙ্গে ভিনগ্রহী প্রাণীর প্রথম যোগাযোগ ঘটতে পারে—এমনই এক ভবিষ্যদ্বাণীর কথা বলা হয় বুলগেরীয় ভবিষ্যদ্বক্তা বাবা ভাঙ্গার নামে। চলমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই কথিত পূর্বাভাস নতুন করে আলোচনায় এসেছে, যদিও বিশ্লেষকেরা একে প্রমাণহীন দাবি বলেই দেখছেন।

যদিও ১৯৯৬ সালে ৮৫ বছর বয়সে বাবা ভাঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। তবে তার ভবিষ্যদ্বাণীগুলো আজও কৌতূহলের বিষয় হয়ে আছে।
নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাবা ভাঙ্গা নাকি ২০২৬ সালে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা এবং মানবজাতির প্রথম ভিনগ্রহী প্রাণীর সঙ্গে সাক্ষাতের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন।
তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘মানবজাতি ভিনগ্রহী জীবনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করবে, যা একটি বৈশ্বিক সংকট বা প্রলয়ের দিকে নিয়ে যেতে পারে।’ কিছু ষড়যন্ত্রতত্ত্ববাদী এই ভবিষ্যদ্বাণীকে রহস্যময় বস্তু 3I/ATLAS–এর আবিষ্কারের সঙ্গে যুক্ত করছেন, যা গত মাসে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছ দিয়ে অতিক্রম করেছে।
চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে—যার মধ্যে চীনের তাইওয়ানের ওপর ধারাবাহিক সামরিক চাপ এবং রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানাপোড়েন রয়েছে—কিছু মানুষের দাবি, বাবা ভাঙ্গার তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হতে পারে।
যদিও বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ এ বছর শুরু হওয়ার কথা, তবুও তা মানবজাতিকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করবে না বলে ধারণা করা হয়। তার আগের ভবিষ্যদ্বাণীগুলোতে বলা হয়েছিল, মানবজাতির পতন শুরু হয়েছে গত বছর থেকে, আর পৃথিবীর চূড়ান্ত অবসান ঘটবে ৫০৭৯ সালে।
২০২৫ সালের জন্য বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণীর মধ্যে ছিল ভয়াবহ ভূমিকম্প, ইউরোপে যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিপর্যয়, পাশাপাশি মানবজাতির পতনের সূচনা।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাধারণ মানুষের মনে অজানাকে জানার কৌতূহল এবং বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের ভীতি থেকেই এই ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ নতুন করে প্রাণ পেয়েছে। তবে এগুলো আসন্ন কোনো বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রামাণ্য তথ্য নয়।
২০২৬ নিয়ে কী ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ করেছেন ভাঙ্গা
কথিত আছে, ২০২৬ সালের জন্য বাবা ভাঙ্গা তিনটি প্রধান সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। এগুলো হলো— ১. বৈশ্বিক সংঘাত: বড় শক্তিগুলোর বিরোধের জেরে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা। ২. প্রাকৃতিক বিপর্যয়: ভয়াবহ ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মতো চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ৩. অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা: ইউরোপে সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে চরম আর্থিক বিপর্যয়।
বাবা ভাঙ্গার যেসব অনুমান সঠিক হয়েছে
২০০০ সালে রুশ সাবমেরিন ‘কুর্স্ক’ দুর্ঘটনা। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে বিমান হামলা। বারাক ওবামার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া। চেরনোবিল পারমাণবিক বিপর্যয়। বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের উত্থান।
যেসব ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ সত্য হয়নি
২০১০ সালে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু। ২০২৫ সালে ভিনগ্রহের প্রাণীদের পৃথিবীতে আগমন।
বাবা ভাঙ্গার অন্যান্য পূর্বাভাস
২০২৮ সাল: জ্বালানির সন্ধানে শুক্র গ্রহে মানুষের অভিযান। ২০৩৩ সাল: ব্যাপক মাত্রায় মেরু অঞ্চলের বরফ গলা। ২০৭৬ সাল: বিশ্বব্যাপী সাম্যবাদের প্রসার। ২১৭০ সাল: ভয়াবহ খরায় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বিপর্যয়। ৩০০৫ সাল: মঙ্গল গ্রহের সভ্যতার সঙ্গে পৃথিবীর বাসিন্দাদের যুদ্ধ। ৩৭৯৭ সাল: বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে পৃথিবী। ৫০৭৯ সাল: পৃথিবীর ধ্বংস।
নস্ত্রাদামুসের ভবিষ্যদ্বাণী
বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণীর পাশাপাশি, সামাজিক মাধ্যমে নস্ত্রাদামুসের ভবিষ্যদ্বাণী নিয়েও আলোচনা চলছে। নস্ত্রাদামুস ছিলেন ১৫০০ সালের এক ফরাসি জ্যোতিষী ও চিকিৎসক, যিনি আধুনিক যুগের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার—যেমন অ্যাডলফ হিটলারের উত্থান, ১১ সেপ্টেম্বরের হামলা এবং কোভিড-১৯ মহামারির—ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন বলে মনে করা হয়।
আরও পড়ুনঃ
নস্ত্রাদামুসের অস্পষ্ট লেখার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এ বছর কোনো প্রভাবশালী পুরুষ ব্যক্তিত্বের হত্যাকাণ্ড অথবা এমন কোনো রাজনৈতিক অভ্যুত্থান ঘটতে পারে, যা একটি রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দিতে পারে। তার লেখার আরেকটি পদ্যে এ বছর সাত মাসব্যাপী এক ভয়াবহ যুদ্ধের সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


