দীর্ঘ দুই দশক পর বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

আকাশ পথে বুধবার দুপুর ১২টায় বরিশালে পৌঁছে ঐতিহাসিক বেলসপার্ক ময়দানে জনসভায় ভাষণ দিয়ে তিনি ফরিদপুরের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন বলে জানা গেছে। এর আগে ২০০৫ সালে বরিশাল এসেছিলেন তারেক রহমান। তখন তিনি ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব।
তারেক রহমানকে বরণ করতে উম্মুখ হয়ে আছেন নেতাকর্মীরা। সে লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন।
বিএনপি চেয়ারম্যানের এ সফরকে ঘিরে গত কয়েক দিন বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের মাঝে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। স্বাধীনতার পরে বরিশালের উন্নয়নে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে পথনকশা তৈরি করেছিলেন, তা অনুসরণ করে যোগ্য উত্তরসুরী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া তার তিনবারের শাসনামলে বিভাগ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে যে ভূমিকা রেখে গেছেন, সে পথ অনুসরণ করে তারেক রহমান কী ভূমিকা পালন করবেন, তা শুনতে অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বরিশালবাসী।
১৯৯১-৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬’র শাসনামলে বরিশাল বিভাগ প্রতিষ্ঠাসহ অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন কাজ বেগম জিয়ার হাতে শুরু ও শেষ হয়েছিল।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে ১৯৭৯ সালের ২৩ নভেম্বর বরিশাল সার্কিট হাউজে মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি দেশের ৫ম প্রশাসনিক বিভাগ হিসেবে বরিশালের উদ্বোধন করেছিলন বেগম খালেদা জিয়া। ওই বছরই বরিশাল বিমানবন্দরের নির্মাণ কাজ শুরু করে ১৯৯৫ সালের ৩ ডিসেম্বর তা উদ্বোধনসহ বরিশাল সেক্টরে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান ফ্লাইটও চালু করেছিলেন।
খালেদা জিয়ার সরকারই ২০০২ সালে দেশের ৫ম বরিশাল সিটি করপোরেশন গঠন করেন। ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মহানগরীর ডেফুলিয়াতে প্রায় ৫০ একর জমির ওপর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ছাড়াও বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বরিশাল মহিলা টিটিসি, দপদপিয়া সেতু ও বরিশাল হার্ট ফাউন্ডেশনসহ বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। সে সময় এসব প্রকল্পের নির্মাণণ কাজ শুরু হয়েছিল। তার সময়ই বিভাগীয় গণগ্রন্থাগার, বরিশাল সার্কিট হাউজ, বরিশাল জেলা জজ আদালত ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করা হয়েছিলো। ২০০৬ সালের অক্টোবরে ক্ষমতা হস্তান্তরের ৩ দিন আগে বরিশাল মহানগর পুলিশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি।
১৯৯৫ সালের মধ্যভাগে ভোলার শাহবাজপুরে প্রথম পরিক্ষামূলক গ্যাস কুপ খনন শুরু করে। ওই বছরই ৭ নভেম্বর ১ নম্বর কুপে গ্যাসের সন্ধান নিশ্চিত করেন বাপেক্স’র প্রকৌশলীরা। পরদিনই বেগম খালেদা জিয়া ভোলা গ্যাস ফিল্ডে ছুটে আসেন। ভোলাতে একাধিক গ্যাসকুপে প্রায় ২ টিসিএফ গ্যাস আবিস্কৃত হলেও আজ পর্যন্ত তা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়নি। নিশ্চিত হয়নি বাণিজ্যিক ব্যবহারও ।
বরিশাল বিমানবন্দর নির্মাণ ও জাতীয় পতাকাবাহী আকাশ পরিষেবাও তার সময় বাস্তব রূপ লাভ করে।
সারা দেশের সঙ্গে সাগর পাড়ের কুয়াকাটার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠাসহ সেখানে প্রথম সরকারি পর্যটন মোটেলের নির্মাণ কাজ তার সময়ই শুরু হয়। তৃতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে খালেদা জিয়া সরেজমিনে কুয়াকাটা সফর করে একান্ত পর্যটন এলাকা ঘোষণাসহ সেখানে আরও একটি পর্যটন মোটেল নির্মাণের লক্ষ্যে অর্থ বরাদ্দ করে গিয়েছিলেন।
কুয়াকাটা-বরিশাল-ফরিদপুর-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের শিকারপুর ও দোয়ারিকাতে সেতু নির্মাণ করে মুক্তিযুদ্ধের দুই বীর সেনানী মেজর এমএ জলিল ও বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের নামে তার নামকরণ করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। একই মহাসড়কের বরিশাল-কুয়াকাটা অংশের দপদপিয়াতে দেশের অন্যতম বৃহৎ দপদপিয়া সেতুর নির্মাণ কাজের সূচনাসহ কলাপাড়া, হাজীপুর ও মহিপুর সেতু নির্মাণ কাজেরও অনুমোদন প্রদান করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি খুলনা-বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের নির্মাণকাজ এবং ঐ মহাসড়কের বরিশাল-খুলনা অংশের গাবখান নদীর ওপর বাংলাদেশ-চীন ৫ম মৈত্রী সেতু নির্মাণ ছাড়াও বেকুটিয়াতে ফেরি সার্ভিস প্রবর্তনও তার সময়ই হয়েছিল। ফলে বরিশালের সাথে খুলনার সড়ক পথে দূরত্ব ২২ কিলোমিটার হ্রাস পায়।
এমনকি তার সময়ই বাংলাদেশ কোস্টগার্ড প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উপকূলভাগসহ দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথ এবং নদ-নদীর নিরাপত্তা বিধানের বিষয়ে সরকারি পদক্ষেপ কার্যকর হয়। কিন্তু বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ এখনো দেশের ন্যায্য উন্নয়ন ধারা থেকে বঞ্চিত। এখনো বরিশাল-ফরিদপুর জাতীয় মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণ, ফরিদপুর-বরিশাল-পায়রা-কুয়াকাটা রেল লাইন নির্মাণ, ভোলার গ্যাস বরিশাল হয়ে ঢাকা ও খুলনায় জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত করা, বরিশালে ইপিজেড স্থাপন, বরিশাল সেক্টরে বিমানের নিয়মিত ফ্লাইট ছাড়াও চট্টগ্রাম-বরিশাল-যশোর আকাশপথে বিমান ফ্লাইট চালু, সাগরের ভায়াভহ ভাঙন থেকে কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্র রক্ষার কাজ অন্ধকারে।
প্রায় ১২ লাখটন খাদ্য উদ্বৃত্ত বরিশাল কৃষি অঞ্চলে রবি মৌসুমে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে গম ও বোরো উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়টি আলোর মুখ দেখেনি। বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূলীয় নৌপথে পুনরায় স্টিমার সার্ভিস চালু, বরিশালে পর্যটন মোটেল সহ ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা, পূর্ণাঙ্গ ‘মডেল স্ট্যাডি’র মাধ্যমে বরিশাল বন্দরের নাব্যতা উন্নয়নে টেকসই সমাধানসহ বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের মাধ্যমে মহানগরীর পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা জরুরি।
বরিশালবাসী বুধবারের জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছ থেকে তার বাবা-মায়ের যোগ্য উত্তরসুরী হিসেবে এ অঞ্চলের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার ওয়াদা শোনার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।
আরও পড়ুনঃ
তারেক রহমানের সফরকে ঘিরে সোমবার দলীয় কার্যালয়ে বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এ সময় তিনি বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে তারেক রহমান অত্যন্ত সজাগ আছেন বলে জানান। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে অতীতের মতো এবারো দক্ষিণাঞ্চলে উন্নয়নে মাইল ফলক রচনা করবে বলেও জানান তিনি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


