আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তিনি পড়াশোনা ছেড়েছিলেন মাত্র ২০ বছর বয়সে। এ কারণে কার্যত কোনো বিশেষ ডিগ্রি তার কাছে ছিল না, যার জোরে তিনি ভালো চাকরি পেতে পারতেন। কিন্তু স্কুল ছাড়ার ছয় মাসের মধ্যেই নিজের চেষ্টায় ৩০ লাখ ডলার (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৩২ কোটি টাকা) আয় করলেন তিনি।

তরুণীর নাম ইনায়া ম্যাকমিলান। বয়স ৩১। বাড়ি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরির সেন্ট লুইসে। কৃষ্ণাঙ্গ ও মুসলিম।

সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেলে নিজের উত্থানকাহিনি ভাগ করে নিয়েছেন ইনায়া। কেউ চাইলে কিভাবে তার দেখানো পথে হেঁটে প্রচুর আয় করতে পারেন, সে বিষয়েও পরামর্শ দিয়েছেন ইনায়া।

৯ মিনিটের এই ভিডিও ইতিমধ্যেই ৯ লাখ মানুষ দেখেছেন।

Advertisement

ভিডিওতে ইনায়া জানিয়েছেন, স্কুল ছাড়ার পর প্রথম প্রথম তিনি বিভিন্ন ই-কমার্স ওয়েবসাইট এবং শেয়ার বাজারের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাতে বিশেষ সুবিধা হয়নি।

শেষ পর্যন্ত অনেক ভেবে একটি বিশেষ সংস্থার সাথে যুক্ত হন ইনায়া। আর ওই সিদ্ধান্তের জেরেই তার এই সম্পদলাভ।

ইনায়া জানিয়েছেন, তিনি যে সংস্থার সাথে যুক্ত হয়েছেন, সেটি শহরে বাইরে থেকে আগত অতিথিদের থাকার বন্দোবস্ত করে। এ ছাড়াও যে সব মানুষ কয়েক দিন নিভৃতে কাটাতে চান, বিশেষ করে যুগলরা- তাদের জন্য অত্যাধুনিক সুবিধাযুক্ত বিলাসবহুল ঘরের ব্যবস্থা করে ওই সংস্থা।

কেউ যদি ওই সংস্থায় নিজের বাড়ির নথিভুক্তিকরণ করেন, তা হলে সংস্থার তরফে সেখানে বসবাস করার জন্য লোক পাঠানো হবে। সেখান থেকে প্রাপ্ত ভাড়ার কিছু টাকা সংস্থার তরফে কেটে নিয়ে বাকি টাকা তুলে দেয়া হবে বাড়ির মালিককে।

সেই সংস্থায় যোগ দিয়েই কয়েক মাসে প্রায় সাড়ে ৩২ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন ইনায়া। তার কথায়, ‘আমি যখন ওই সংস্থার মাধ্যমে বাড়ি ভাড়া দিতে শুরু করেছিলাম, তখন আমার কাছে টাকা ছিল না। একটি মাত্র বাড়ি ছিল। কিন্তু এখন আমার কাছে ওই ধরনের ১১টি ঘর রয়েছে। যেগুলো আমি ওই সংস্থার মাধ্যমে ভাড়া দিই।’

ইনায়া আরো বলেন, ‘আমি যখন পড়াশোনা ছেড়েছিলাম, তখন সবাই আমাকে করুণার চোখে দেখত। বিশেষ পাত্তা দিত না। কিন্তু যখন আমি টাকা রোজগার করতে শুরু করলাম, তখন সকলে আমার কদর করতে শুরু করে। সবাই এই ভেবে অবাক হচ্ছে যে ২০ বছরের তরুণী কিভাবে এত টাকা রোজগার করছে।’

ইনায়া জানান, তিনি অর্থ উপার্জন শুরু করার পর অনেকেই তার সাথে যোগাযোগ করেন এবং তার ব্যবসায় যোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। সহজে টাকা রোজগারের ‘টোটকা’ জানতেও কেউ কেউ তার সাথে যোগাযোগ করেছিলেন বলে জানান ইনায়া।

এর পর ইনায়া সিদ্ধান্ত নেন, সৎভাবে অর্থ উপার্জনের বুদ্ধি বাকিদেরও শেখাবেন। তাই একটি কোচিং সেন্টারের সাথে হাত মিলিয়ে ব্যবসায়িক পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করতে শুরু করেন তিনি।

ইনায়া বলেন, ‘আমার কোচিং সেন্টারের ছাত্রছাত্রীদের কেউ কেউ আমার থেকে পরামর্শ নিয়ে ইতিমধ্যেই উপার্জন করতে শুরু করেছে।’

ইনায়ার বক্তব্য, তিনি ব্যবসার প্রতি প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তাই তিনি নিজের ভাইকেও ব্যবসায় যোগ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

ইনায়ার দাবি, তিনি পড়াশোনা ছাড়ার পক্ষপাতী নন। কিন্তু তিনি নিজে স্কুল ছাড়তে বাধ্য হন পরিস্থিতির চাপে পড়ে। তাই ভাইকে ব্যবসায় যোগ দিতে উৎসাহিত করলেও পড়াশোনা ছাড়তে দেননি বলে জানিয়েছেন ইনায়া।

ইনায়া বলেছেন, তিনি ব্যবসা থেকে এক মাসে ৬০ হাজার ডলার পর্যন্ত উপার্জন করেছেন। তার দাবি, ২০২২ সালের জুনে তিনি প্রথম এক লাখ ডলারের মালিক হন। তার পর থেকে ইনায়ার উপার্জন ক্রমেই বেড়ে চলেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

বর্তমানে ওই সংস্থার মাধ্যমে ঘর ভাড়া দিয়ে এবং পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করে কোটি কোটি টাকার মালিক ইনায়া।

ভালো কাজ করার ইচ্ছা এবং ইতিবাচক মানসিকতা থাকলে যে কেউ তার মতো উপার্জন করতে পারবেন, মনে করছেন ইনায়া।

বর্তমানে কোটি কোটি টাকার মালিক হলেও ইনায়ার যাত্রাপথ সহজ ছিল না। কিভাবে কঠিন সময় পার করে তিনি সুখের মুখ দেখেছেন, সে কথা ইউটিউব ভিডিওতে জানিয়েছেন ইনায়া।

ইনায়ার দাবি, কৃষ্ণবর্ণের এবং মুসলিম হওয়ার কারণে স্কুলে পড়ার সময় কেউ তার সাথে কথা বলতেন না। তার কোনো বন্ধু ছিল না।

তার যখন ১৬ বছর বয়স, তখন তার বাবা তাকে ডেল কার্নেগির লেখা ‘হাউ টু উইন ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ইনফ্লুয়েন্স পিপল’ নামে একটি বই উপহার দিয়েছিলেন। সেই বই পড়েই তিনি জীবনে এগিয়ে যাওয়ার যাবতীয় অনুপ্রেরণা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইনায়া।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

উড়ন্ত গাড়ি উড়বে এবার যুক্তরাষ্ট্রে, মিলেছে অনুমতি

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Sibbir Osman is a professional journalist currently serving as the Sub-Editor at Zoom Bangla News. Known for his strong editorial skills and insightful writing, he has established himself as a dedicated and articulate voice in the field of journalism.