
বনানী থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কচি ও সোনিয়া একইসঙ্গে থাকতেন এবং একইসঙ্গে ঘুরে বেড়াতেন। বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে মেলামেশা ছিল তাদের। তাদের মোবাইল ফোন কলের সূত্র ধরে কিছু নাম্বারে কল করলে এ তথ্য মেলে।
সোনিয়ার নম্বর থেকে একটি নম্বর নিয়ে কল করলে, ওপাশ থেকে আনিস নামে এক যুবক বলেন, ওইদিন সোনিয়া সকাল ১১টা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত তার সঙ্গে ছিলেন। তারা মোটরসাইকেলে ঘুরেছেন, খাওয়া দাওয়া করেছেন। একটি বাসায় অন্তরঙ্গ মুহূর্ত কাটিয়েছেন বলে জানান ওই যুবক।
কতদিনের পরিচয় জানতে চাইলে ওই যুবক জানিয়েছেন, এক বন্ধুর মাধ্যমে তিনি নম্বর পান, ওইদিনই তাকে ফোন করেছেন এবং একদিনই ঘুরেছেন। বিনিময়ে তিনি এক হাজার ২০০ টাকা দিয়েছেন। আর কচির বিষয়টি জানতেন না বলেও জানান ওই যুবক।
কচির মামা নুরুল আমিন জানান, কচি কী করতেন তা আমি জানতাম না। মাঝে মধ্যে ফোনে কথা হতো। টেলিভিশনে মরদেহের ছবি দেখে কচিকে চিনতে পারি, এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করি। শুনেছিলাম, মিরপুর শাহ আলী এলাকায় একটি রুম ভাড়া নিয়ে দুই বান্ধবী থাকত। তারা দুজন একইসঙ্গে চলাফেরা করত একইসঙ্গে থাকত।
সোনিয়ার বড়ভাই রুবেল বলেন, সোনিয়া ঢাকায় চাকরি করার কথা বলেছিল আমাকে। এরপর বিউটি পার্লারে কাজের কথাও একসময় জানিয়েছিল। বিয়ে হয়েছিল তিন মাসের মাথায় তালাক হয়ে যায়। এরপর আর বিয়ে করেননি সোনিয়া।
পুলিশ জানায়, সৈয়দা কচির (৩৮) বাড়ি কিশোরগঞ্জ কুলিয়ারচর পৌরসভার পাচুলিয়া বাজিতপুর এলাকার সৈয়দ ফজলুল হকের মেয়ে। নিহত আরেকজন সোনিয়া আক্তারের (৩২) বাড়ি ভোলা সদর উপজেলায়।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১টার দিকে মহাখালী সেতু ভবনের সামনের সড়কে দুই নারীকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় পথচারীরা। পরে তাদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিলে দুজনকেই মৃত ঘোষণা করে কর্তব্যরত চিকিৎসক।
বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরে আজম জানান , ‘দিনরাত তারা স্কুটিতে ঘুরে বেড়াতেন। বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে যাওয়ারও প্রমাণ মিলেছে।’
তাদের মৃত্যুর বিষয়ে ওসি বলেন, ‘মামলা হয়েছে, তদন্ত চলছে। কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে তা জানার চেষ্টা চলছে।’
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



