
জুমবাংলা ডেস্ক : মেট্রোরেলসহ সরকারের বড় প্রকল্পগুলোতে মালামাল চুরি করতে শক্তিশালী একটি চক্র গড়ে ওঠেছে। এই চক্রটিতে আবার প্রকল্প এলাকায় টার্গেট করা মালামালের তথ্য নেওয়া থেকে শুরু করে ক্রেতা পর্যন্ত চারটি স্তর রয়েছে। সোমবার র্যাব-৪ এর একটি দল রাজধানীর শাহআলী এলাকা থেকে এ চক্রের ১১ সদস্যকে গ্রেপ্তার করলে এ তথ্য বেরিয়ে আসে।
ওই ১১ জনের কাছ থেকে মেট্রোরেল প্রকল্প থেকে চুরি করা অন্তত ৪০ টন ওজনের ১৮টি আইবীম উদ্ধারের কথা জানিয়েছেন র্যাব কর্মকর্তারা। এছাড়া তাদের কাছ থেকে চোরাই মালামাল বহনে ব্যবহৃত একটি ট্রাক, চোরদলের চলাচলে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার, নগদ চার লাখ ২৩ হাজার টাকা এবং ১৬টি মোবাইল সেট জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার ১১ জন হলেন, মোতালেব শিকদার (৫৪), নজরুল ইসলাম (৪৪), হাবিব উল্লাহ ভূঁইয়া (৪৩), ওয়ালীউল্লাহ ওরফে বাবু (৪১), সুমন ঘোষ (৪৩), আব্দুল্লাহ আল মামুন, আব্দুস ছাত্তার (৫৮), মো. আশিক (৩১), আমজাদ হোসেন রাজন (৩৬), মো. মনির (৪০) এবং মো. রিয়াজুল (২০)।
র্যাব-৪ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল সমকালকে বলেন, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মেট্রোরেল প্রকল্প ছাড়াও সরকারের আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের আইবীমসহ অপ্রয়োজনীয় লোহা, ইস্পাত, তার, মেশিন কৌশলে চুরি করে আসছিল। তারা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চোরাই মালামাল খণ্ড খণ্ড করে কেটে তা বিভিন্ন ভাঙারি ও চাহিদাকারী ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে আসছিল।
র্যাবের অপর একজন কর্মকর্তা বলেন, চক্রটি চার ধাপে চুরি কার্যক্রম চালায়। প্রথম ধাপের সদস্যরা ‘তথ্য সংগ্রহকারী’ সদস্য। তারা প্রকল্প এলাকায় কৌশলে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে এবং সেই অনুযায়ী চুরির পরিকল্পনা করে থাকে। দ্বিতীয় ধাপে এদের একটি ‘সাহায্যকারী’ টিম রয়েছে। তারা প্রকল্পের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ত। সরাসরি চোর দলটিকে সহায়তা করা তাদের কাজ। তৃতীয় ধাপে রয়েছে ‘দালাল গ্রুপ’। চোর দলের এ সদস্যদের কাজ হচ্ছে চুরি করা মালামালের পরিবর্তন-পরিবর্ধন করে সহজে বহনযোগ্য করে থাকা। মূলত এই গ্রুপটিই চোর এবং ক্রেতাদের সঙ্গে সংযোগ করিয়ে দেয়। চতুর্থ ধাপে রয়েছে ‘ক্রেতা চক্র’। এ গ্রুপের সদস্যরা সরাসরি চুরির সঙ্গে জড়িতদের কাছে তাদের চাহিদার কথা জানায় এবং চোরাই মালামাল কিনে থাকে।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার ১১ জনের মধ্যে মোতালেব, নজরুল, হাবিব উল্লাহ এবং ওয়ালীউল্লাহ সরাসরি চুরির সঙ্গে জড়িত। এছাড়া সুমন ঘোষ, মামুন, ছাত্তার, আশিক, আমজাদ দালাল চক্রের সদস্য। মনির ও রিয়াজুল চোরাই পণ্য কিনে আসছিলেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


