
আগামী ২৩ মে পর্যন্ত চলা এ উৎসবকে ঘিরে এরই মধ্যে জমে উঠেছে ভূমধ্যসাগর তীরের ছোট্ট এই শহর। বিশ্বের নামকরা নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী, প্রযোজক ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে কান এখন পরিণত হয়েছে আন্তর্জাতিক সিনেমার প্রাণকেন্দ্রে।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় কান শহরের ঐতিহ্যবাহী ‘পালে দে ফেস্টিভাল এ দে কঁগ্রে’ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
এর মধ্য দিয়েই শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত রেড কার্পেট আয়োজন, যেখানে অংশ নেবেন বিশ্বের খ্যাতিমান তারকারা।
এবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় থাকছেন ফরাসি অভিনেত্রী আইসা মাইগা। অন্যদিকে প্রধান প্রতিযোগিতা বিভাগের জুরি বোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রখ্যাত নির্মাতা পার্ক চান-উক।
উৎসব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে স্থান পেয়েছে ২১টি চলচ্চিত্র।
মর্যাদাপূর্ণ ‘পাম দ’র’ পুরস্কারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সমসাময়িক বিশ্ব সিনেমার একাধিক খ্যাতিমান পরিচালক। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের আসগর ফারহাদি,স্পেনের পেদ্রো আলমোদোভার, জাপানের হিরোকাজু কোরে-এদা, পোল্যান্ডের পাওয়েল পাভলিকোভস্কি এবং জাপানের রিউসুকে হামাগুচি।
এবারের প্রতিযোগিতা বিভাগে আলোচনায় থাকা চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে পেদ্রো আলমোদোভারের বিটার ক্রিসমাস, ক্রিস্টিয়ান মুঙ্গিউয়ের ফিয়র্ড, পাওয়েল পাভলিকোভস্কির ফাদারল্যান্ড, আসগর ফারহাদির প্যারালাল টেলস, রিউসুকে হামাগুচির অল অব আ সাডেন এবং হিরোকাজু কোরে-এদার শিপ ইন দ্য বক্স।
চলতি আসরে হলিউড নির্ভরতার পরিবর্তে আন্তর্জাতিক ও স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্রকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে একমাত্র নির্মাতা হিসেবে অংশ নিচ্ছেন ইরা স্যাক্স। তার নির্মিত দ্য ম্যান আই লাভ চলচ্চিত্রটি আশির দশকের নিউইয়র্কে এইডস সংকটের প্রেক্ষাপটে নির্মিত।
উৎসবের উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ফরাসি নির্মাতা পিয়ের সালভাদোরি পরিচালিত রোমান্টিক সিনেমা দ্য ইলেকট্রিক কিস। এছাড়া বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে প্রিমিয়ার বিভাগে প্রদর্শিত হবে হলিউড অভিনেতা জন ট্রাভোল্টা পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র প্রপেলার: ওয়ান-ওয়ে নাইট কোচ।
চলচ্চিত্রে আজীবন অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবারের সম্মানসূচক ‘পাম দ’র’ প্রদান করা হবে নিউজিল্যান্ডের কিংবদন্তি পরিচালক পিটার জ্যাকসন এবং মার্কিন সংগীত ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব বারব্রা স্ট্রাইস্যান্ডকে।
উৎসব চলাকালে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, বিশ্ব প্রিমিয়ার, সংবাদ সম্মেলন এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বাজার কার্যক্রম একযোগে চলবে। প্রতি বছরের মতো এবারও বিশ্বের শতাধিক দেশের চলচ্চিত্র ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মিলনায়তনে পরিণত হবে কান শহর।
যদিও এবারের আসরের জন্য নির্দিষ্ট কোনো প্রতিপাদ্য ঘোষণা করা হয়নি, তবুও নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের অংশগ্রহণ, বিশ্ব সিনেমার বৈচিত্র্য এবং নারী-পুরুষ চলচ্চিত্রকারদের প্রতিনিধিত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আগামী ২৩ মে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। এর মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্ব চলচ্চিত্রপ্রেমীদের বহুল প্রতীক্ষিত এই আয়োজন। তবে পুরো উৎসবজুড়ে আন্তর্জাতিক সিনেমা অঙ্গনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবে ফ্রান্সের কান শহর।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



