বাংলাদেশের পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের নিকটবর্তী এলাকায় এক ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে তিনটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আজ সোমবার ভোর ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে ভারতের মণিপুর, অরুণাচল প্রদেশ–ভুটান সীমান্ত এবং ভারতের মেঘালয়- সুনামগঞ্জের উত্তরের এলাকায় এসব ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়।

এর আগে রবিবার রাতে কক্সবাজার–মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তবে কোনো ধরনের হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ভারতের সরকারি ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ভোর ৪টা ১২ মিনিটে প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে ভারতের মণিপুর রাজ্যে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৫। ভূমিকম্পটির উপকেন্দ্র ছিল ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৫৯ কিলোমিটার গভীরে।
এর পাঁচ মিনিট পর, ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে অরুণাচল প্রদেশ ও ভুটান সীমান্তবর্তী এলাকায় ৩ দশমিক ০ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়। এর উপকেন্দ্র ছিল মাত্র ৭ কিলোমিটার গভীরে, যা অগভীর ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত।
সবশেষে ভোর ৫টা ৫ মিনিটে সুনামগঞ্জ জেলার উত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে ২ দশমিক ৯ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর উপকেন্দ্র ছিল ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে।
এর আগে রোববার রাত পৌনে ১০টার দিকে কক্সবাজারসহ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ইউরোপীয়–মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কক্সবাজার–মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকা।
চলতি মাসে ধারাবাহিকভাবে একাধিক ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ২২ জুন রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর রূপগঞ্জ সংলগ্ন এলাকা। এরপর ১২ জুন সিলেট–ভারত সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ৪ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। একই মাসের ৭ জুন ভুটানের পুনাখা অঞ্চলে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও অনুভূত হয়।
ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও আগাম সতর্কতা ও সঠিক প্রস্তুতি জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমাতে পারে। দুর্যোগের সময় আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকতে হবে এবং নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে।
ভূমিকম্প হলে করণীয়
ডান, কভার ও হোল্ড: ভূমিকম্প শুরু হওয়া মাত্রই মেঝের কাছাকাছি বসে পড়ুন। কোনো মজবুত টেবিল বা ডেস্কের নিচে আশ্রয় নিন, যেন মাথা ও ঘাড় সুরক্ষিত থাকে এবং শক্ত করে টেবিলের পায়া ধরে রাখুন।
আসবাবপত্র থেকে দূরে থাকুন: কাঁচের জানালা, দেয়াল আয়না, বা ভারী আসবাবপত্র থেকে দূরে থাকুন।
খোলা স্থানে অবস্থান করুন: যদি ঘরের বাইরে থাকেন, তবে গাছ, ভবন বা বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে খোলা স্থানে অবস্থান করুন।
যানবাহনে থাকলে: চলন্ত গাড়িতে থাকলে নিরাপদে রাস্তার পাশে গাড়ি থামান, তবে কোনো ওভারব্রিজ, গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে থামবেন না।
ভূমিকম্পের পর যা করবেন
লিফট ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন: ভূমিকম্পের পর বিদ্যুৎ চলে যেতে পারে বা লিফট ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তাই সিঁড়ি ব্যবহার করুন।
ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন: আপনার আশেপাশে কোনো গ্যাস লিকেজ বা বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিট আছে কিনা তা পরীক্ষা করুন। আগুন লাগার ঝুঁকি থাকলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান।
আফটারশক: বড় ভূমিকম্পের পর ছোট ছোট আরও ভূকম্পন (আফটারশক) হতে পারে, তাই কিছুদিন সতর্ক থাকুন।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
প্রযুক্তির সাহায্য নিন
স্মার্টফোনে ভূমিকম্পের আগাম সতর্কতা চালু রাখুন। আধুনিক স্মার্টফোনে (বিশেষ করে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে) অন্তর্নির্মিত Google Play services for safety & emergency সিস্টেম রয়েছে, যা ভূকম্পন শুরু হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগে সতর্ক করতে পারে। এছাড়া বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে ভূমিকম্পের নোটিফিকেশন পেতে USGS Earthquake Notification Service ব্যবহার করতে পারেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



