ফেনীর কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা হিসেবে যুক্ত হয়েছে তরমুজ চাষ। জেলার উপকূলীয় চরাঞ্চলের আবাদি-অনাবাদি জমিতে বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ উৎপাদনে বদলে যাচ্ছে কৃষকদের ভাগ্য। চলতি মৌসুমে জেলায় ১ হাজার ২৯৯ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে ২৫০ কোটি টাকার বেশি তরমুজ উৎপাদনের আশা করছেন কৃষি বিভাগ ও চাষিরা।

জেলার উপকূলীয় জনপদ সোনাগাজী উপজেলার নদীপাড়ের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এখন সবুজের সমারোহ। একসময় জোয়ারের লবণাক্ত পানির শঙ্কায় অনাবাদি পড়ে থাকা জমিতেই এখন ফলছে অর্থকরী ফসল তরমুজ। গাছে এসেছে ফুল, পরিচর্যায় সকাল-দুপুর পার করছেন কৃষকরা। রমজানের মাঝামাঝি থেকে ফলন ঘরে তোলার প্রস্তুতি চলছে।
উপজেলার চরচান্দিয়া, চর দরবেশ, সোনাগাজী সদর, নবাবপুর ও আমিরাবাদ ইউনিয়নের মাঠজুড়ে উচ্চ ফলনশীল বিভিন্ন জাতের তরমুজের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ড্রাগন কিং, জেব্রা কিং, গ্লোরি ড্রাগন, ব্ল্যাক জায়ান্ট, ব্ল্যাক বেরি, ভিক্টর সুগার ও ওশান সুগারসহ দেশি-বিদেশি নানা জাত রয়েছে।
চরের চাষিরা জানান, চলতি মৌসুমে প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে তরমুজের আবাদ। বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাস না হলে ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন তারা।
চরাঞ্চলের মাটি তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় নতুন অনেক কৃষকও এ চাষে যুক্ত হচ্ছেন।
চর দরবেশ এলাকার কৃষক আজগর হোসেন বলেন, সোনাগাজীর চরে প্রতিবছর তরমুজের আবাদ বাড়ছে। এখানে উৎপাদন ভালো হওয়ায় এবং ফলের গুণগত মান উন্নত হওয়ায় বাজারমূল্যও সন্তোষজনক পাওয়া যায়।
সোনাগাজীর আদর্শগ্রামের কৃষক রফিক উদ্দিন জানান, পাশের জেলা সুবর্ণচর থেকে এসে তিনি এখানে তরমুজের আবাদ করছেন। এ অঞ্চলের মাটির গুণগত মান ভালো হওয়ায় তরমুজ চাষ লাভজনক।
সোনাগাজী ছাড়াও জেলার সদর উপজেলার কালিদহ ও ধর্মপুর, ছাগলনাইয়ার শুভপুর, ফুলগাজী, পরশুরাম এবং দাগনভূঞার কিছু এলাকাতেও তরমুজের আবাদ বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে ফেনীতে তরমুজ উৎপাদন অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।
তবে চাষিরা উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন। ২০২৪ সালের বন্যায় মুসাপুর ক্লোজার ভেঙে যাওয়ার পর থেকে লবণাক্ত জোয়ারের পানি ফসলের জমিতে প্রবেশ করছে। এতে তরমুজ চাষ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ক্লোজারটি দ্রুত পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সোনাগাজীর কোম্পানি বাজার সংলগ্ন এলাকার কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, ক্লোজার ভেঙে যাওয়ার পর প্রায়ই সাগরের নোনাপানি জমিতে উঠে ফসলের ক্ষতি করছে। তরমুজের জন্য এটি বড় ঝুঁকি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফেনী কার্যালয় জানায়, গত মৌসুমে জেলায় ৭৭৪ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছিল। চলতি মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৯৯ হেক্টরে অর্থাৎ ৫২৫ হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫১ হাজার ৯৬০ মেট্রিক টন।
অধিদপ্তরের ফেনীর উপপরিচালক মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ জানান, গত মৌসুমে ফেনীতে উৎপাদিত তরমুজের বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি গড়ে অন্তত ৫০ টাকা ধরে বাজারমূল্য ২৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে সোনাগাজীর চর দরবেশ ইউনিয়নে পরীক্ষামূলকভাবে তরমুজ চাষ শুরু করেন এক কৃষক। ধীরে ধীরে তা সম্প্রসারিত হয়ে এখন জেলায় বাণিজ্যিক আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে মৌসুমে এর সম্ভাব্য বাজারমূল্য আড়াইশ কোটি টাকার বেশি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


