সম্পর্ক ভাঙার কষ্টে কয়েক মাস অনিদ্রায় ভুগেছিলেন কাল্কি কোয়েচলিন। সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান কীভাবে মানসিক আঘাত তাঁর শরীর ও কাজের উপর প্রভাব ফেলেছিল, যা নতুন করে মন-শরীরের সম্পর্ক নিয়ে ভাবতে বাধ্য করে।

অভিনেত্রী কাল্কি কোয়েচলিন সম্প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের এক কঠিন অধ্যায়ের কথা সামনে এনেছেন, যা শুধু মানসিক নয়, শারীরিকভাবেও তাঁকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছিল। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সম্পর্ক ভাঙার যন্ত্রণা তাঁকে এমন অনিদ্রার মধ্যে ফেলেছিল, যা টানা কয়েক মাস ধরে চলেছিল।
হৃদয়ভাঙা থেকে অনিদ্রা
কাল্কির কথায়, “হৃদয়ভাঙার পরে কয়েক মাস আমি ঠিকমতো ঘুমোতেই পারিনি। তখনই বুঝেছি, মন আর শরীর কতটা গভীরভাবে জড়িয়ে থাকে।” তিনি জানান, মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যেত এবং আর ঘুম আসত না। সেই সময় গিটার বাজিয়ে বা অন্য কিছু করে নিজেকে ব্যস্ত রাখতেন, কারণ ঘুমে ফেরার উপায় থাকত না।
কাজের উপর প্রভাব
এই অনিদ্রা তাঁর পেশাগত জীবনেও বড় প্রভাব ফেলে। শুটিংয়ের সময় তিনি নিজেকে বিভ্রান্ত মনে করতেন। কাল্কির কথায়, “কাজের সময় বুঝতেই পারতাম না আমি স্বপ্ন দেখছি নাকি জেগে আছি। সবকিছু যেন অস্পষ্ট লাগত।” প্রায় চার মাস ধরে এই অবস্থার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে, যা তাঁর মানসিক অবস্থাকেও নাড়িয়ে দেয়।
সম্পর্ক ও অতীতের প্রভাব
যদিও সেই সময়ের সঙ্গীর নাম প্রকাশ করেননি, তবে কাল্কির সবচেয়ে পরিচিত সম্পর্ক ছিল পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ-এর সঙ্গে। ‘দেব.ডি’ ছবির সেটে তাঁদের পরিচয়, পরে ২০১১ সালে বিয়ে এবং ২০১৩ সালে বিচ্ছেদ- সব মিলিয়ে সেই সম্পর্ক ছিল বহুচর্চিত।
কাল্কি আরও জানান, ছোটবেলায় তাঁর বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদও তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব ফেলেছিল।
“আমি ছোটবেলায় দেখেছি কীভাবে সম্পর্ক ভেঙে যায়। হয়তো সেই অভিজ্ঞতাই আমার নিজের সম্পর্কগুলোকে প্রভাবিত করেছে।”
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
সময়ের সঙ্গে বদল
বিচ্ছেদের পর প্রথম দিকে অনুরাগের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা কঠিন ছিল। একে অপরকে অন্য কারও সঙ্গে দেখতে কষ্ট হতো। তবে সময়ের সঙ্গে সেই দূরত্ব কমেছে। “এখন আমরা অনেকটাই স্বাভাবিক জায়গায় পৌঁছেছি, মাঝে মাঝে কথা হয়,”—জানান কাল্কি।
সব মিলিয়ে, কাল্কি কোয়েচলিনের এই অভিজ্ঞতা স্পষ্ট করে দেয়—মানসিক আঘাত কেবল মনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, তা শরীরের উপরেও গভীর প্রভাব ফেলে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


