ভারতীয় বাংলা সিনেমার প্রথম সারির অধিকাংশ নায়িকা বিয়ে করে থিতু হয়েছেন। এ তালিকায় রয়েছেন—পাওলি দাম, কোয়েল মল্লিক, নুসরাত জাহান, শুভশ্রী গাঙ্গুলির মতো তারকারা। তাদের কেউ কেউ এখন একাধিক সন্তানের মা।

তবে ভারতীয় সিনেমার লাস্যময়ী অভিনেত্রী রাইমা সেন ছেচল্লিশেও অবিবাহিত। কেবল তাই নয়, সিঙ্গেল বলেও দাবি তার। এ অভিনেত্রীর বিয়ে নিয়ে ভক্ত-অনুরাগীদের মাথা ব্যথার শেষ নেই। তার মা অভিনেত্রী মুনমুন সেন মেয়ের বিয়ে নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অবিবাহিত ছেচল্লিশের রাইমার জীবনের অভিজ্ঞতা এখন কেমন? এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে তিনি বলেন, “দারুণ। আমার মনে হয়, চল্লিশের পরই জীবন শুরু হয়। সত্যি বলতে, নিজেকে এখন অনেক বেশি স্বাধীন লাগে।”
খানিকটা ব্যাখ্যা করে রাইমা সেন বলেন, “মাঝে জীবনে অনেক কিছুই দেখা হয়ে গিয়েছে। এখন তো মনে হয়, বিশ বা ত্রিশের কোটায় জীবন সেভাবে ছন্দে ছিল না। তবে যে শিক্ষাগুলো পেয়েছি তাতে চল্লিশের পরে জীবন অনেক সহজ হয়েছে। আর সিঙ্গেল হওয়ার সুবাদে মুক্ত পাখির মতো জীবনযাপন করতে পারি।”
রাইমা সেন এখনো অভিনয়ে সরব। তবে খুব বেশি কাজ করেন না। কারণ ব্যাখ্যা করে এই অভিনেত্রী বলেন, “যেসব কাজের অফার পাচ্ছি, তাতে তো কিছু নতুনত্ব থাকতে হবে। একই ধরনের গল্প বা চরিত্রের প্রস্তাব এলে কাজ করতে চাই না। এখন কিছু করলে ইন্টারেস্টিং কিছু করতে চাই। মানে এমন কোনো চরিত্র, যেভাবে দর্শক আগে আমাকে দেখেননি। না হলে কাজ করে যাওয়ার মানে নেই। এ কারণে এমন অনেক সময় গিয়েছে, যখন কোনো কাজ করিনি। অভিনেতা হিসেবে যাতে নিজে কিছু শিখি, এখন নতুন কিছু করার মাঝে সেটাকেই প্রাধান্য দিই। ধরুন, কমেডি বা গ্যাংস্টার কিংবা ফিল্মি পুলিশের চরিত্র। আউট অব দ্য বক্স কোনো চরিত্র।”
মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের কন্যা মুনমুন সেন। ১৯৭৮ সালে সুচিত্রা নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ভরত দেব ভার্মার সঙ্গে কন্যার বিয়ে দেন। জানা যায়, স্বামীর অনুমতি নিয়ে অভিনয়ে নাম লেখান মুনমুন সেন। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত প্রথমে মেনে নেননি সুচিত্রা। এ নিয়ে মনমালিন্য তৈরি হয়েছিলেন। যদিও পরবর্তীতে তা মিটে যায়। মুনমুন-ভরত দম্পতির দুই কন্যা। তারা হলেন—রাইমা সেন ও রিয়া সেন। তারা দুজনেই জনপ্রিয় অভিনেত্রী।
কবে বিয়ে করছেন—এ প্রশ্ন শুনতে শুনতে অনেকটা ক্লান্ত রাইমা সেন। কয়েক বছর আগে এ সাক্ষাৎকারে রাইমা সেন বলেছিলেন, “আমার বিয়ে হলে কার কী সুবিধা হবে? আমি হ্যাপিলি সিঙ্গেল। বাবা-মা যথেষ্ট স্বাধীনতা দিয়েছেন, রোজগার করছি, ট্রাভেল করছি। কারো কাছে জবাবদিহি করার নেই। শুধু বিয়ে করার জন্য বিয়ে করব না, যদি না পাগলের মতো কারো প্রেমে পড়ি। আর তাকেও আমার সব কিছুর সঙ্গে অ্যাডজাস্ট, কম্প্রোমাইজ করতে হবে।”
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
১৯৯৯ সালে বলিউডের ‘গডমাদার’ সিনেমার মাধ্যমে রুপালি জগতে পা রাখেন রাইমা। তারকা পরিবারের সন্তান হলেও রূপ আর অভিনয় গুণে নিজেকে প্রমাণ করেছেন এই অভিনেত্রী। উপহার দিয়েছেন বেশ কিছু হিন্দি ও বাংলা ভাষার দর্শকপ্রিয় সিনেমা। তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো—‘হাওয়া বদল’, ‘২২শে শ্রাবণ’, ‘মি আমোর’, ‘বাস্তশাপ’, ‘দ্বিতীয় পুরুষ’, ‘চিত্রাঙ্গদা’ প্রভৃতি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



