সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত ৫৭ জন শিশুকে শনাক্ত করে শ্রম থেকে নিরসন এবং তাদের মধ্যে ১৪ জনকে বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

শিশুশ্রম প্রতিরোধ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এক কর্মশালায় এ তথ্য জানান কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, মানিকগঞ্জ কার্যালয়ের উপ-মহাপরিদর্শক মোজাম্মেল হোসেন। বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বেলা তিনটায় জেলা প্রশাসন, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, মানিকগঞ্জ কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় অতিথি আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নারী ও শিশুশ্রম শাখার উপসচিব মো. আব্দুল ওদুদ, মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন এ বি এম মোফাখখারুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুম এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মাদ নাজমুল হাসান খান।
কর্মশালায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কর্মশালার শুরুতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, মানিকগঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক শিশুশ্রমের বর্তমান চিত্র ও আইনগত দিক তুলে ধরেন।
তিনি জানান, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৮) অনুযায়ী ১৪ বছরের কম বয়সী শিশু দিয়ে শ্রম করানো দণ্ডনীয় অপরাধ এবং ১৮ বছরের কম বয়সী কিশোরদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
সভায় জানানো হয়, চলতি অর্থবছরে পরিচালিত বিশেষ সরেজমিন পরিদর্শনে মানিকগঞ্জ জেলায় ৫৭ জন শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত অবস্থায় শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের শ্রম থেকে নিরসনের পাশাপাশি পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে পাসা এনজিওর সহযোগিতায় ইতোমধ্যে ১৪ জন শিশুকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্য শিশুদেরও সমাজসেবা কার্যালয়, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে শিক্ষায় ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বক্তারা বলেন, শিশুশ্রম বন্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।
এ সময় শিশুশ্রম নিরসনে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
কর্মশালায় শিশুশ্রম নিরসনে নিয়মিত পরিদর্শন ও পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করায় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, মানিকগঞ্জের ভূমিকার প্রশংসা করা হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে মানিকগঞ্জকে ধাপে ধাপে শিশুশ্রমমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


