জাহিদ ইকবাল : ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে চমক হতে পারেন কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের নতুন কমিটি গঠনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা।

বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে আসায় সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্বে কারা আসছেন—সেটি নিয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী, গতিশীল ও আন্দোলনমুখী করতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। ইতোমধ্যে রাজপথের পরীক্ষিত, ত্যাগী, নির্যাতিত ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতাদের নিয়ে শুরু হয়েছে চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই। যেকোনো সময় ঘোষণা হতে পারে ছাত্রদলের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি।
এই নতুন নেতৃত্বের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নামগুলোর মধ্যে অন্যতম ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত। লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার এই ছাত্রনেতা দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজপথের আন্দোলন, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। ছাত্রদলের ভেতরে-বাইরে অনেকেই মনে করছেন, সংগঠনের বর্তমান বাস্তবতায় সভাপতি কিংবা শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য তিনি অন্যতম যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য মুখ।
দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মী নন; বরং তিনি একজন সংগ্রামী, সাহসী ও ত্যাগী ছাত্রনেতার প্রতিচ্ছবি। বিগত সরকারের সময় হামলা-মামলা, গ্রেপ্তার, গুম, নির্যাতন ও রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়েও তিনি রাজপথের আন্দোলন থেকে কখনো সরে দাঁড়াননি। সংগঠনের নেতারা দাবি করেন, ছাত্রদলের দুঃসময়ে যখন অনেকেই আত্মগোপনে ছিলেন, তখন বাসিত মাঠে থেকে দলকে সংগঠিত করেছেন এবং নেতাকর্মীদের সাহস জুগিয়েছেন।
রাজনৈতিক জীবনে কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিতের বিরুদ্ধে ২৯টি মামলা দায়ের করা হয়। তিনি চারবার গ্রেপ্তার হন এবং টানা ১১ মাস কারাভোগ করেন। দলীয় নেতারা জানান, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে তাকে একাধিকবার শারীরিক নির্যাতনেরও শিকার হতে হয়েছে। এমনকি তাকে গুমের হুমকি দেওয়া হয় এবং পরিবারের সদস্যদেরও হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়। তবুও আন্দোলনের মাঠ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি। বরং প্রতিটি আন্দোলনে আরও দৃঢ় অবস্থান নিয়ে সক্রিয় থেকেছেন।
বিশেষ করে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর সায়েন্সল্যাব, রামপুরাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ছাত্র-জনতার প্রতিরোধ আন্দোলনে তার সরব উপস্থিতি ছিল বলে নেতাকর্মীরা উল্লেখ করেন।
সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বলছেন, কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিতের সবচেয়ে বড় শক্তি তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মতে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলা, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাংগঠনিক সফর করেছেন এবং কর্মীদের সুসংগঠিত করতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। ফলে সারা দেশে তার একটি শক্তিশালী কর্মীবল ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই ছাত্রনেতা শিক্ষাজীবনেও ছিলেন মেধাবী। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে উচ্চতর শিক্ষায় অধ্যয়নরত রয়েছেন। ছাত্রজীবনে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। পরবর্তীতে তিনি সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
দলীয় সূত্র জানায়, ছাত্রদলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে বাসিতের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে টিম-৬ (বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম বিভাগ) এর টিমলিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দেন। তার নেতৃত্বে ছাত্রদল প্যানেলের প্রার্থী আইয়ুবুর রহমান তৌফিক সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে জয়লাভ করেন। পাশাপাশি হল সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতেও ছাত্রদল প্যানেলের প্রার্থীদের বিজয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখেন তিনি।
শুধু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেই নয়, সামাজিক ও মানবিক কাজেও সক্রিয় উপস্থিতির কারণে সংগঠনের ভেতরে আলাদা ইতিবাচক ইমেজ তৈরি করেছেন কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত। বিভিন্ন সময়ে অসহায় শিক্ষার্থীদের ভর্তি সহায়তা প্রদান, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শিক্ষালয় স্থাপন, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা, নেতৃত্ব বিকাশ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা আয়োজন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর মতো নানা জনকল্যাণমূলক কাজ করেছেন তিনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সি-ইউনিট ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল সেবার আয়োজন করে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন বাসিত। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকায় নেতাকর্মীদের নিয়ে এই মেডিকেল সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।
ছাত্রদলের দলীয় নেতারা বলেন, বিভিন্ন টেলিভিশন টকশো ও রাজনৈতিক আলোচনায় কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত যুক্তিনির্ভর ও সাবলীলভাবে দলের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তার বক্তব্যে রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও আত্মবিশ্বাস ফুটে ওঠে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তার একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি একজন স্মার্ট, আধুনিক ও সংগ্রামী ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
এ বিষয়ে কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে সবসময় রাজপথে ছিলাম। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দলের দায়িত্ব পালন করেছি। বহু হামলা-মামলা, কারাবরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। কিন্তু কখনো পিছিয়ে যাইনি। আমি বিশ্বাস করি, দলের হাইকমান্ড আগামী দিনের নেতৃত্ব নির্ধারণে যোগ্যতা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতাকে মূল্যায়ন করবে। যদি দল আমাকে দায়িত্ব দেয়, তাহলে সেটি হবে আমার জন্য বড় সম্মানের বিষয়।”
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন উত্তেজনা ও আলোচনা তুঙ্গে, তখন সংগঠনের ভেতরে-বাইরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিতের নাম। তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ বিশ্বাস করেন, ত্যাগ, সংগ্রাম, দক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই ছাত্রনেতা ছাত্রদলের আগামী দিনের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


