যিশু খ্রিস্ট তাকে জড়িয়ে ধরে আছেন- এবার এমন একটি এআই-জেনারেটেড ছবি শেয়ার করে আবারো ধর্মীয় বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মাত্র কয়েক দিন আগেই ‘চরম ধর্মদ্রোহিতার’ অভিযোগে এ ধরনের একটি পোস্ট মুছে ফেলতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। খবর রোয়া নিউজের।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার (১৫ এপ্রিল) ট্রাম্পের শেয়ার করা ছবিটি ‘আইরিশ ফর ট্রাম্প’ নামক একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে নেওয়া। ছবিতে দেখা যায়, প্রথাগত অবয়বের যিশু খ্রিস্ট একটি পোডিয়ামের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা প্রেসিডেন্টের কাঁধে হাত রেখে তাকে সমর্থন দিচ্ছেন।
ট্রাম্প এই ছবিটি তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছেন, “র্যাডিক্যাল বামপন্থি পাগলেরা হয়তো এটি পছন্দ করবে না, কিন্তু আমার মনে হয় এটি বেশ সুন্দর!”
এর আগে গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) ট্রাম্প একটি ভিন্ন ছবি ডিলিট করতে বাধ্য হন যেখানে তাকে অলৌকিক ক্ষমতাধর কোনো দেবদূতের মতো দেখাচ্ছিল।
সমালোচকরা একে ‘পবিত্র অবমাননা’ হিসেবে আখ্যা দিলে ট্রাম্প আত্মপক্ষ সমর্থন করে এক অদ্ভুত যুক্তি দেন। ছবিটি মুছে ফেলার বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে ট্রাম্প দাবি করেন, নিজেকে কোনো দেবতার সঙ্গে তুলনা করার কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না।
সোমবার ট্রাম্প বলেন, “আমি এটি পোস্ট করেছিলাম কারণ আমি ভেবেছিলাম এখানে আমাকে একজন ডাক্তার হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং এটি রেড ক্রসের সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি আমাকে একজন ডাক্তার হিসেবে উপস্থাপন করার কথা ছিল, যিনি মানুষকে সুস্থ করছেন। আর আমি তো মানুষকে সুস্থই করি… কেবল ‘ফেক নিউজ’ সংবাদমাধ্যমই এখানে যিশুকে খুঁজে পেয়েছে।”
ট্রাম্প তার এই ‘ডাক্তার’ যুক্তি দেওয়া সত্ত্বেও, বুধবার তিনি যে পোস্টটি শেয়ার করেছেন তার ক্যাপশনে সরাসরি ঐশ্বরিক হস্তক্ষেপের কথা উল্লেখ ছিল। সেখানে লেখা ছিল, “আমি কখনোই খুব বেশি ধর্মীয় মানুষ ছিলাম না… কিন্তু এমন কি মনে হয় না যে… ঈশ্বর হয়তো তার ট্রাম্প কার্ড খেলছেন!”
প্রেসিডেন্টের এই ঘনঘন ধর্মীয় প্রতীকের ব্যবহার প্রথম মার্কিন বংশোদ্ভূত পোপ লিও চতুর্দশের সঙ্গে তার বাড়তে থাকা দ্বন্দ্বের মধ্যেই সামনে এল। সম্প্রতি ইরানে মার্কিন প্রশাসনের সামরিক হস্তক্ষেপের সমালোচনা করায় ট্রাম্প পোপের ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন। তিনি পোপকে ‘অপরাধ দমনে দুর্বল’ এবং ‘পররাষ্ট্রনীতির জন্য ভয়াবহ’ বলে অভিহিত করেন।
পাল্টা জবাবে পোপ লিও সতর্ক করে বলেছেন, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব বা ধর্মকে যেন রাজনৈতিক বা সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা না হয়।
এই বিতর্ক এমন এক সময়ে চলছে যখন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি পার করছে। ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতিকে সফল দাবি করলেও, লেবাননকে এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত করার দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি লেবাননের সংঘাতকে একটি ‘আলাদা সংঘর্ষ’ বলে অভিহিত করেছেন।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
ইরানি কর্মকর্তারা মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সোশ্যাল মিডিয়া আচরণকে তার কূটনৈতিক সততার অভাব হিসেবে দেখছেন। ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, “প্রতিরোধ এবং ইরান এক আত্মা।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে কোনো যুদ্ধবিরতিই সফল হবে না।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


