ডিজিটাল যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করেছে, তবে এর সঙ্গে এসেছে নতুন ধরনের ঝুঁকি। এর মধ্যে একটি হলো ভয়েস ক্লোনিং, যেখানে কোনও ব্যক্তির কণ্ঠস্বর নকল করে বাস্তবের মতো শোনানো অডিও তৈরি করা যায়।

মাত্র কয়েক সেকেন্ডের অডিও নমুনা থাকলেই উন্নত এআই মডেল সেই কণ্ঠস্বর বিশ্লেষণ করে নতুন বাক্য তৈরি করতে পারে। ফলে ঘটতে পারে প্রতারণা, ভুয়া খবর ছড়ানো, আর্থিক জালিয়াতি বা ব্যক্তিগত ব্ল্যাকমেইল। তাই গুরুত্বপূর্ণ হলো—কীভাবে এআই তৈরি কৃত্রিম কণ্ঠস্বর চেনা যায়।
টোন ও আবেগের স্বাভাবিকতা লক্ষ্য করুন
মানুষের কণ্ঠে থাকে স্বাভাবিক ওঠানামা, আবেগের সূক্ষ্ম পরিবর্তন এবং শ্বাস নেওয়ার শব্দ। কিন্তু অনেক এআই-জেনারেটেড ভয়েস অত্যন্ত নিখুঁত বা একঘেয়ে শোনাতে পারে। কথার মাঝে অস্বাভাবিক বিরতি, ভুল জায়গায় জোর দেওয়া বা আবেগের অসামঞ্জস্য থাকলে সতর্ক হোন।
অনুরোধের প্রাসঙ্গিকতা যাচাই করুন
হঠাৎ কারও কণ্ঠে জরুরি অর্থ বা পাসওয়ার্ড চাওয়া, অস্বাভাবিক কোনো নির্দেশনা পাওয়া—এ ধরনের অনুরোধের ক্ষেত্রে সরাসরি বিশ্বাস না করে অন্য মাধ্যমে যাচাই করুন। ফোনে বা ভিডিও কলে নিশ্চিত হওয়া নিরাপদ উপায়।
অডিও বিশ্লেষণ টুল ব্যবহার করুন
বিভিন্ন সাইবার সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই এআই-ভিত্তিক ডিপফেক শনাক্তকরণ সফটওয়্যার তৈরি করেছে। এগুলো অডিওর ফ্রিকোয়েন্সি, প্যাটার্ন এবং ডিজিটাল আর্টিফ্যাক্ট বিশ্লেষণ করে বলে দিতে পারে সেটি সত্যিকারের কণ্ঠ না কৃত্রিম।
ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়ান
-সামাজিক মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় ভয়েস ক্লিপ শেয়ার করবেন না।
-পাবলিক প্ল্যাটফর্মে দীর্ঘ অডিও আপলোড সীমিত করুন।
-গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখুন।
-সাইবার অপরাধীরা আপনার কণ্ঠস্বরকেও ব্যবহার করতে পারে, তাই এই সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ।
-আইনি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিন
যদি কেউ আপনার কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে প্রতারণা করে, তাহলে দ্রুত সাইবার ক্রাইম ইউনিট বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন। অনেক দেশে ইতিমধ্যেই ডিপফেক ও ভয়েস ক্লোনিং নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়ন শুরু হয়েছে।
এআই ভয়েস ক্লোনিং বর্তমান সময়ের একটি বাস্তব ঝুঁকি। সতর্কতা, যাচাই-বাছাই এবং সাইবার সুরক্ষা টুল ব্যবহার করে এই ঝুঁকি অনেকটা কমানো সম্ভব।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


