মহান আল্লাহ তায়ালা কোরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি; মানবজাতির কল্যাণের উদ্দেশ্যেই তোমাদের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত ১১০)। অর্থাৎ মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করা।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যতক্ষণ কোনো ব্যক্তি তার ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে, ততক্ষণ আল্লাহ তায়ালাও তার সাহায্যে থাকেন’ (তিরমিজি)। অন্য এক হাদিসে তিনি আরও বলেন, ‘সমগ্র সৃষ্টি আল্লাহর পরিবারসদৃশ। আল্লাহর কাছে সেই বান্দাই সর্বাধিক প্রিয়, যে তাঁর সৃষ্টির প্রতি সদয় আচরণ করে’ (বায়হাকি)।
রাসুল (সা.) মানবিক দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে না, আল্লাহও তার প্রতি দয়া করেন না’ (বুখারি)। আর্তমানবতার সেবার গুরুত্ব বোঝাতে তিনি এক হাদিসে কেয়ামতের দিনের এক ভয়াবহ দৃশ্য তুলে ধরেছেন। সেখানে আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে বলবেন—আমি ক্ষুধার্ত ছিলাম, তুমি আমাকে আহার করোনি; আমি তৃষ্ণার্ত ছিলাম, তুমি আমাকে পানি দাওনি; আমি অসুস্থ ছিলাম, তুমি আমার সেবা করোনি।
বান্দা বিস্ময়ে জিজ্ঞেস করবে—হে আমার রব! তুমি তো সব অভাব থেকে মুক্ত, তুমি কিভাবে ক্ষুধার্ত বা অসুস্থ হলে? তখন আল্লাহ বলবেন—আমার এক বান্দা ক্ষুধার্ত অবস্থায় তোমার কাছে এসেছিল, তুমি তাকে খাদ্য দাওনি; তাকে দিলে আমাকে দেওয়া হতো। পিপাসার্তকে পানি দিলে সেটিও আমাকে দেওয়া হতো। অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করলে তা আমাকে সেবা করার শামিল হতো—তুমি কি তা জানতে না?* (মুসলিম)।
ইসলামে একজন মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের বহু অধিকার রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো—কোনো মুসলিম অসুস্থ হলে তার খোঁজখবর নেওয়া ও তাকে দেখতে যাওয়া (বুখারি)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রোগীর সেবা কর, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও এবং বন্দিকে মুক্ত কর’ (বুখারি)।
আরেক হাদিসে তিনি রোগী দেখতে যাওয়ার ফজিলত বর্ণনা করে বলেন, ‘যখন কোনো মুসলিম তার অসুস্থ মুসলিম ভাইকে দেখতে যায়, সে ফিরে না আসা পর্যন্ত জান্নাতের ফলবাগানে অবস্থান করে।’ সাহাবারা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘এর অর্থ হলো জান্নাতের ফল আহরণ করা’ (মুসলিম)।
ইসলাম শুধু মুসলমানদের মধ্যেই নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির সঙ্গে উত্তম আচরণের শিক্ষা দেয়। বিশেষভাবে এতিম, গরিব, অসহায় ও নিপীড়িত মানুষের সহায়তায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এতিমের অধিকার আদায় না করা এবং দরিদ্রকে খাদ্য দানে অনাগ্রহী হওয়াকে কঠোরভাবে নিন্দা করে কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তুমি কি তাকে দেখেছ, যে দীনকে অস্বীকার করে? সে সেই ব্যক্তি, যে এতিমকে রূঢ়ভাবে তাড়িয়ে দেয় এবং মিসকিনকে খাবার দেওয়ার জন্য মানুষকে উৎসাহিত করে না’ (সুরা মাউন, আয়াত ১–৩)।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


