সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর সহকারি সরকারি কৌশলি (এপিপি) এড. মো. লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রায় ৩০ শতাংশ জমি দখল করে ব্যক্তিগত স্থাপনা ও আম বাগান তৈরির অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরি ইউনিয়নের রাথুরা মৌজায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে তরা ক্রস ব্রিজ এলাকায় সওজের মালিকানাধীন জমির একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে দখলে রেখে সেখানে একটি খামার নির্মাণের পাশাপাশি আম গাছ রোপণ করে বাগান তৈরি করা হয়েছে। দখলকৃত জমির পরিমাণ আনুমানিক ৩০ শতাংশ।
তারা আরও দাবি করেন, উক্ত জমিটি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নামে রেকর্ডভুক্ত হলেও সেখানে কোনো ধরনের বৈধ ইজারা বা অনুমোদন ছাড়াই ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন লুৎফর রহমান।
অনুসন্ধান চলাকালে নালিশী ওই জমির আরএস নকশা ও খতিয়ানের কপি এসছে এই প্রতিবেদকের হাতে। খতিয়ান অনুযায়ী দেখা যায়, জমিটির মালিক সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। এছাড়া নকশা অনুযায়ী সেখানে মহাসড়কের জমি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, লুৎফর রহমানের দখলে থাকা জমিটি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের মালিকানাধীন। লুৎফর রহমান ক্ষমতার অপব্যবহার করে সেই জমি জোরপূর্বক দখল করে ব্যক্তিগত স্থাপনা তৈরি করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেন, সরকারি জমি ব্যক্তিগতভাবে দখলে নেওয়ার ফলে এলাকায় জনস্বার্থ ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দখলদারিত্ব উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে এপিপি মো. লুৎফর রহমান বলেন, আমি সরকারি জমি দখল করিনি। এটা আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সেই জমির সামান্য একটি অংশ অ্যাকুয়ার করেছে, বাকি জমি আমাদের নিজস্ব মালিকানাধীন। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।
মামলা চলমান থাকাবস্থায় সেখানে স্থাপনা নির্মাণ ও আম গাছ রোপণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আশপাশে আরো অনেকেই তো সরকারি জমি দখল করে দোকানপাট নির্মাণ করেছে। তাদের তো কেউ কিছু বলেনা। আমার বিষয়টা নিয়ে এত কথা কেন? সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে এ নিয়ে আমার অনেকবার কথা হয়েছে। তারা কোন আপত্তি জানায়নি। একটা পক্ষ আমার ক্ষতি সাধন করতেই এটা নিয়ে কথা তুলছে।
তবে, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর নোটিশ করলে কাগজপত্র দেখিয়ে থাকতে পারলে থাকবেন না পারলে স্থাপনা সড়িয়ে ফেলা হবে বলেও জানিয়েছেন লুৎফর রহমান।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের মানিকগঞ্জ কার্যালয়ের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, সওজের জমি দখলের একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দখল প্রমাণিত হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


