বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তাঁদের রাজনীতির মূল ভিত্তি হবে সততা, ন্যায়বিচার ও সংস্কার। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জামায়াত নিজেরা কখনো দুর্নীতিতে জড়াবে না এবং কোনো দুর্নীতিবাজকেও আশ্রয় দেবে না। বিচারব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রভাবের কোনো সুযোগ থাকবে না। জুলাই সনদ ও প্রস্তাবিত সব সংস্কার বাস্তবায়নের অঙ্গীকারের ভিত্তিতেই ১১টি দল একত্রিত হয়েছে বলে তিনি জানান। লক্ষ্য—আগামী দিনে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর মহিষালবাড়ি মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়; এটি জাতির মোড় ঘোরানোর নির্বাচন। তাঁর ভাষায়, বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে এই নির্বাচনের সুযোগ এসেছে। যারা সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করে দেশকে এই পর্যায়ে এনেছেন, তাঁদের অনেকেই আজ আর বেঁচে নেই। সেই আত্মত্যাগের ফলেই দেশ ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, সমাজের সব স্তরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই তাঁদের লক্ষ্য, আর সেই লক্ষ্যেই গড়া হবে নতুন বাংলাদেশ।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত এমন একটি বাংলাদেশ চায় যেখানে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—সবাই নিরাপদ থাকবে। নারীরা ঘরে, পথে ও কর্মস্থলে সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে জীবনযাপন করবেন—এমন সমাজ গড়াই তাঁদের অঙ্গীকার। তিনি বলেন, তাঁরা এমন শিক্ষা ব্যবস্থা চান যা দেশপ্রেমিক, সংগ্রামী নাগরিক তৈরি করবে। যুবসমাজ ভাতা নির্ভর হতে চায় না—তারা কাজ ও সম্মানের সুযোগ চায়। গ্রামীণ অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
ন্যায়বিচার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, আইন সবার জন্য সমান হতে হবে। একজন সাধারণ মানুষ ও দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতাসীন ব্যক্তি—অপরাধ একই হলে শাস্তিও একই হবে। কোনো পদ বা ক্ষমতা বিচারকে প্রভাবিত করতে পারবে না। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে জনগণ স্বাভাবিকভাবেই তাদের অধিকার ফিরে পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এমন বাংলাদেশ গড়া হবে যেখানে কোনো অসভ্য ব্যক্তি নারীদের দিকে কুদৃষ্টি দেওয়ার সাহস পাবে না এবং ধর্ম, বর্ণ বা জাতের নামে বিভাজনের রাজনীতি আর চলবে না। সেই বাংলাদেশ হবে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ।
তিনি জানান, কর্মজীবী নারী ও শ্রমজীবীদের জন্য আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বেবি কেয়ার ও ডে কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলা হবে। শিল্পাঞ্চল ও জনবহুল এলাকায় বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে রাষ্ট্র কখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে দমন করবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। শ্রমিকদের দাবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূরণ করার নীতির ওপরই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে—এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
জনসভা থেকে ভোটারদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রথম ভোট হবে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে। আর দ্বিতীয় ভোট দিতে হবে দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রতীক ইনসাফের দাঁড়িপাল্লায়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


