অ্যাপল প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা এসেছে। প্রায় দেড় দশক ধরে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে নেতৃত্ব দেওয়ার পর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন টিম কুক। তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের সহকর্মী এবং যন্ত্রপ্রকৌশল বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জন টার্নাস। আগামী ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এই পরিবর্তন কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

তবে টিম কুক সম্পূর্ণভাবে বিদায় নিচ্ছেন না। তিনি পরিচালনা পর্ষদের কার্যনির্বাহী সভাপতি হিসেবে নতুন দায়িত্ব পালন করবেন। ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর তার বয়স হবে ৬৫ বছর। ২০১১ সালে স্টিভ জবসের উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি জন টার্নাসের সঙ্গে মিলিতভাবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি সহজ করতে কাজ করবেন এবং বিশ্বব্যাপী নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করবেন।
৫০ বছর বয়সী জন টার্নাস ২০০১ সালে এই প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে নিজের শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। বিশেষ করে ম্যাক কম্পিউটারের বিক্রি বৃদ্ধি এবং বাজার সম্প্রসারণে তার অবদান উল্লেখযোগ্য। টিম কুক তাকে দূরদর্শী নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি।
টার্নাসের অন্যতম বড় সাফল্য হলো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব এম-ধারার চিপ ব্যবহারের দিকে রূপান্তর। তার নেতৃত্বে এই পরিবর্তন ম্যাকবই ও আইপ্যাডের কর্মক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। ফলে তিনি একজন দক্ষ প্রকৌশলী ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনাকারী হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। সহকর্মীদের মতে, তিনি শান্ত স্বভাবের, নিখুঁত এবং সমন্বয়মুখী নেতা।
পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যন্ত্রপ্রকৌশলে স্নাতক শেষ করে টার্নাস এই প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন। এর আগে তিনি একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এখানে এসে তিনি খ্যাতিমান নকশাবিদ জনি আইভের অধীনে কাজ করার সুযোগ পান। পরবর্তীতে তিনি আইফোন, আইপ্যাড ও এয়ারপডসসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের বিভিন্ন বিভাগ দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেছেন।
টিম কুকের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের মূল্য প্রায় ১৮০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তার সময়েই অ্যাপল পে, অ্যাপল ওয়াচ ও অ্যাপল টিভি প্লাস জনপ্রিয়তা অর্জন করে। কুক যেখানে ব্যবসা পরিচালনা ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় পারদর্শী ছিলেন, সেখানে টার্নাস পরিচিত তার পণ্যকেন্দ্রিক চিন্তাধারা ও কারিগরি দক্ষতার জন্য। ফলে অনেকেই আশা করছেন, তার নেতৃত্বে নতুন উদ্ভাবনের সূচনা হতে পারে।
তবে সামনে টার্নাসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। আইফোনের বিক্রি হ্রাস, বিশ্বজুড়ে কঠোর নীতিমালা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষেত্রে তীব্র প্রতিযোগিতা—সব মিলিয়ে তাকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। পাশাপাশি মিশ্র বাস্তবতা প্রযুক্তির বাজারে অবস্থান ধরে রাখা এবং নতুন যুগান্তকারী পণ্য উদ্ভাবন করাও হবে বড় দায়িত্ব। বিনিয়োগকারীদের আস্থা অটুট রাখা এবং কোটি ব্যবহারকারীর প্রত্যাশা পূরণ করাই হবে তার প্রধান পরীক্ষা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


