সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের তৈরি কনটেন্ট নিজের নামে প্রচার করে ভিউ ও আয় করার প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এই প্রবণতা রোধে এবার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্ম এক্স (সাবেক টুইটার)। নতুন নীতিমালার মাধ্যমে মূল কনটেন্ট নির্মাতাদের অধিকার রক্ষা এবং নকল বা পুনঃপ্রকাশকারী অ্যাকাউন্টগুলোর আয় সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রি-আপলোড করা ভিডিওতে আর আয় নয়
এক্স-এর প্রোডাক্ট বিভাগের প্রধান নিকিতা বিয়ার এক ব্লগ পোস্টে জানান, অনেক বড় অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে ছোট নির্মাতাদের জনপ্রিয় ভিডিও সংগ্রহ করে পুনরায় প্রকাশ করছিল। এতে মূল নির্মাতারা যথাযথ স্বীকৃতি ও আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন।
তিনি আরও জানান, প্ল্যাটফর্মটি এমন বহু অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করেছে, যারা নিয়মিতভাবে অন্যের কনটেন্ট পুনঃপ্রকাশ করে রেভিনিউ শেয়ার প্রোগ্রাম থেকে আয় করছিল।
আয়ের সুবিধা যাবে মূল নির্মাতার কাছে
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এক্স এখন পুনঃপ্রকাশিত বা রি-আপলোড করা ভিডিও শনাক্তের জন্য উন্নত ব্যবস্থা চালু করবে। কোনো ভিডিও কপি শনাক্ত হলে সেই কনটেন্ট থেকে অর্জিত বিজ্ঞাপনভিত্তিক আয় ও ইমপ্রেশন সরাসরি মূল নির্মাতার হিসাবে যুক্ত হবে।
অন্যদিকে, যারা শুধু অন্যের কনটেন্ট কপি করে পুনঃপ্রকাশ করবেন, তারা সেই কনটেন্ট থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা পাবেন না।
প্রতিক্রিয়া প্রকাশে শেয়ার ও কোট পোস্টের পরামর্শ
ব্যবহারকারীদের মতামত, বিশ্লেষণ বা প্রতিক্রিয়া প্রকাশের ক্ষেত্রে শেয়ার ভিডিও বা কোট পোস্ট ফিচার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে এক্স। এতে মূল কনটেন্টের উৎস অক্ষুণ্ণ থাকবে এবং প্রকৃত নির্মাতা যথাযথ স্বীকৃতি পাবেন। পাশাপাশি দর্শকরা সহজেই মূল উৎসে পৌঁছাতে পারবেন।
মৌলিক কনটেন্ট তৈরিতে উৎসাহ
এক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হলো মৌলিক ও মানসম্মত কনটেন্ট তৈরিতে নির্মাতাদের উৎসাহ দেওয়া। একই সঙ্গে নিশ্চিত করা যে প্রকৃত নির্মাতারা তাদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পান।
নিকিতা বিয়ারের ভূমিকা
উল্লেখ্য, জনপ্রিয় সামাজিক অ্যাপ টিবিএইচ এবং গ্যাসের নির্মাতা নিকিতা বিয়ার ২০২৫ সালে এক্স-এ যোগ দেন। এর আগে তিনি মেটা এবং ডিসকোর্ডসহ একাধিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।
ক্রিয়েটর ইকোনমি নিয়ে তার বিভিন্ন মতামত ইতোমধ্যেই প্রযুক্তি মহলে আলোচিত হয়েছে। তিনি আগেও নির্মাতাদের মুখ দেখিয়ে ভিডিও তৈরির পরামর্শ দিয়েছিলেন, কারণ তার মতে নতুন অ্যাকাউন্ট হলেও এ ধরনের কনটেন্ট দ্রুত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম।
নতুন নীতিমালার ফলে এক্সে কনটেন্ট চুরি বা অনুলিপি করে জনপ্রিয় হওয়ার প্রবণতা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে মৌলিক কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য আরও স্বচ্ছ ও ন্যায্য পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



