দিন কয়েক আগের কথা। অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ চলাকালে বিসিবি পরিচালকদের নিয়ে একটি ইংরেজি পত্রিকায় একটি ছবি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেটা নিয়ে তুমুল আলোচনা। ছবিতে পরিষ্কার দেখা যায় প্রেসিডেন্ট বক্সে কথা বলছিলেন তিন পরিচালক ফারুক আহমেদ, খালেদ মাসুদ পাইলট ও এম নাজমুল ইসলাম। কিন্তু মুহূর্তটা উত্তেজক পরিস্থিতিরই একটা অংশ বলে মনে হচ্ছে। যা নিয়ে মুখরোচক কিছু খবর ডালপালা মেলতে থাকে। কিন্তু রবিবার ফারুক আহমেদ সাংবাদিকদের কাছে ডেইলি সানে ছাপা হওয়া ছবিটি এআই দিয়ে বানানো হতে পারে বলে দাবি করেছেন।

সাংবাদিকদের ফারুক বলেছেন, ‘আমরা কথা বলার সময় তো হাত আর বন্ধ রাখতে পারি না, হাত চলতে থাকে। ওইটা যদি হয়েও থাকে আমার মনে হয় এটা খুব সম্ভবত একটা বানানো একটা ছবি। আমি দুঃখিত যদি ওই লোকটা থেকে থাকে, যে ছবিটা তুলেছে এবং আর এটার কনটেক্সট ওটা কিছুই নাই ওখানে।’
ছবিতে ফারুক আহমেদ আঙুল তুলে কিছু একটা বলছিলেন। কিন্তু ফারুকের ব্যাখ্যা, ‘আঙুলটা এটা আমার আঙুল না। এই আঙুলটা কোথা থেকে এসেছে, আমি জানি না। দুই নম্বর হলো, আপনার সামনে নির্লিপ্তভাবে একজন ভদ্রমহিলা আর তার বাচ্চা নিয়ে খেলা দেখছে, তাদের মাঝখানে দুইজন মানুষ এটা কীভাবে সম্ভব? কোনও ভদ্রলোক এই কাজটা করতে পারে না আমার মনে হয়।’
প্রেসিডেন্ট বক্সে অবস্থান করার সময় পরিচালকদের ছবি তোলায় সেই ফটোসাংবাদিককে আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করেছে বিসিবি। এ প্রসঙ্গে ফারুক বলেছেন, ‘আমার মনে হয় ডিসিপ্লিনারি গ্রাউন্ড থেকে সতর্ক করা হয়েছে, যদি এরকম কোনও ছবি তুলে থাকে। উনি যদি সঠিকভাবে ঘটনাটা না জানে এরকম কোনও ছবি দেওয়া উচিত না। এটা আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করছি, এই ধরনের কোনও বিভ্রান্তি তৈরি করার কোনও দরকার নেই। আপনি যদি কোনও ছবি তোলেন আর পাইলট আমি বা নাজমুল সাহেবের সঙ্গে যদি কেউ কথা বলে থাকেন। আপনি একটা ছবি দিয়ে যদি চালিয়ে দেন, আমার মনে হয় না এটা খুব ভালো সাংবাদিকতা। এরকম না করলে ভালো।’
এমনিতে বিসিবি পরিচালক নাজমুল ইসলাম বিভিন্ন জায়গায় আর্থিক অনিয়ম নিয়ে কথা বলে যাচ্ছেন। এ নিয়ে পরিচালকদের নিজেদের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে খবর রয়েছে। বিসিবির সাবেক পরিচালক ফাহিম সিনহা তো নিজের নামে দুর্নীতির অভিযোগের কথা শুনে অবাক। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছেন, ‘আমার ও মাহবুব আংকেলের(মাহবুব আনাম) বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নানান মাধ্যমে এটা শুনে আমি খুব অবাক হয়েছি। এখন স্বনামধন্য অডিট কোম্পানির রিপোর্ট ও অন্য অফিশিয়াল সবকিছু দেখার পর চেকে স্বাক্ষর করেছি। আমার নিজের তো আর পূর্বাচলে মাটি মাপার কাজ নয়। এর জন্য তো অন্যরা আছে।’
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
এরপরই আবাহনী লিমিটেডের পরিচালক পরিতাপের সুরে বলেছেন, ‘আমি নিজেই আগের কমিটিতে থাকার সময় নানানভাবে কাজ করেছি। বিসিবির ডিজিটাল পেজ চালিয়েছি। সেই পেজকে ধীরে ধীরে কোন জায়গায় নিয়েছি তা সবাই জানে। শুধু তাই নয়, অনূর্ধ্ব ১৯ দলের ম্যানেজার হয়েও বিসিবি থেকে নিজের জন্য কোনও অর্থ নেইনি। উল্টো নিজের থেকে সবার জন্য ব্যয় করেছি। এরপরও আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগটি হাস্যকর মনে হচ্ছে। এটা আমার মনে হয় এক ধরনের প্রতিহিংসা ছাড়া অন্য কিছু নয়।’
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


