মানুষের অন্তরের অশান্তির অন্যতম বড় কারণ হলো নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করা। অন্যের সম্পদ, সৌন্দর্য, ক্ষমতা বা সামাজিক অবস্থান দেখে নিজের প্রাপ্তিকে তুচ্ছ মনে করা থেকে জন্ম নেয় হিংসা, হতাশা ও অসন্তোষ। ধীরে ধীরে এই মনোভাব মানুষের কৃতজ্ঞতাবোধ নষ্ট করে দেয় এবং তাকে আত্মিকভাবে দুর্বল করে তোলে। অথচ ইসলাম এমন কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছে, যা মানুষের চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গিকে সঠিক পথে পরিচালিত করে অন্তরে শান্তি এনে দেয়।

এই বিষয়ে প্রবিত্র মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা রয়েছে—
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذَا نَظَرَ أَحَدُكُمْ إِلَى مَنْ فُضِّلَ عَلَيْهِ فِي الْمَالِ وَالْخَلْقِ فَلْيَنْظُرْ إِلَى مَنْ هُوَ أَسْفَلَ مِنْهُ
আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: তোমাদের কেউ যদি এমন ব্যক্তির দিকে তাকায়, যে সম্পদ বা শারীরিক গঠনে তার চেয়ে বেশি প্রাপ্ত, তবে সে যেন এমন ব্যক্তির দিকে তাকায়, যে তার চেয়ে কম প্রাপ্ত। (বুখারি, হাদিস: ৬৪৯০)
এই হাদিসে মানুষের মানসিক ভারসাম্য রক্ষার এক অসাধারণ শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। দুনিয়ার ক্ষেত্রে যদি মানুষ সবসময় নিজের চেয়ে বেশি প্রাপ্ত মানুষের দিকে তাকিয়ে থাকে, তাহলে তার মনে অসন্তোষ তৈরি হয়। কারণ পৃথিবীতে সবসময়ই এমন কেউ থাকবে, যে আমাদের চেয়ে বেশি কিছু পেয়েছে। ফলে এই তুলনা মানুষকে কৃতজ্ঞতা থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতকে তুচ্ছ মনে করায়।
তাই এই হাদিস আমাদের শিক্ষা দেয়—দুনিয়াবি বিষয়ে নিজের চেয়ে এগিয়ে থাকা কাউকে দেখলে, নিজের চেয়ে কম প্রাপ্ত মানুষের কথা মনে করতে হবে। এতে অন্তরে কৃতজ্ঞতা জন্মায়, আল্লাহর ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্টি আসে এবং হিংসা ও অস্থিরতা দূর হয়। এটি আত্মিক প্রশান্তি লাভের একটি বাস্তবসম্মত উপায়।
তবে দ্বীনের ক্ষেত্রে ঠিক বিপরীত নীতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। সেখানে আমাদের উচিত নিজের চেয়ে এগিয়ে থাকা নেককারদের দিকে তাকিয়ে অনুপ্রাণিত হওয়া, যাতে আমরা আরও বেশি ভালো কাজ করতে পারি।
সবশেষে বলা যায়, মানুষের দৃষ্টি যদি সঠিক পথে পরিচালিত হয়, তবে তার হৃদয়ও সঠিক থাকে। আর হৃদয় সঠিক থাকলে জীবন হয়ে ওঠে শান্ত, পরিতৃপ্ত ও আল্লাহমুখী।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন এবং তাঁর দেওয়া নেয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞ থেকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফিক দিন।
মুফতি সাইফুল ইসলাম
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


