পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা ঘোষণা করেছেন, পুরুষ কিংবা নারীর মধ্যে যে ব্যক্তি মুমিন অবস্থায় সৎকর্ম করবে, তাকে তিনি দুনিয়ায় পবিত্র জীবন দান করবেন এবং আখিরাতে উত্তম প্রতিদান প্রদান করবেন। আল্লাহ বলেন, “পুরুষ কিংবা নারীর মধ্যে যে মুমিন অবস্থায় সৎকর্ম করবে, আমি অবশ্যই তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং তারা যা করত, তার উত্তম প্রতিদান তাদের প্রদান করব।” (সুরা আন-নাহল, আয়াত: ৯৭)।

আল্লাহতায়ালা নেককার বান্দাদের সম্পর্কে আরও বলেন, যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তাদের প্রতিদান কখনো নষ্ট করা হবে না। তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত হবে ঝরনাধারা। সেখানে তারা সোনার অলংকার ও রেশমি পোশাকে সজ্জিত থাকবে এবং সম্মানজনক আসনে বসবাস করবে। (সুরা আল-কাহাফ, আয়াত: ৩০-৩১)।
প্রত্যেক মুসলমানের উচিত নিয়মিত নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা। ইবাদত, সততা, মানবসেবা ও আল্লাহভীতি মানুষকে পরকালে মুক্তি লাভে সহায়তা করবে। যারা আল্লাহর বিধান মেনে জীবন পরিচালনা করবে, আল্লাহ তাদের জন্য শান্তিময় জান্নাত প্রস্তুত রেখেছেন।
আল্লাহতায়ালা বলেন, “আজ প্রত্যেককে তার অর্জিত কাজের প্রতিদান দেওয়া হবে। আজ কারও প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।” (সুরা আল-মুমিন, আয়াত: ১৭)। কেয়ামতের দিন প্রত্যেক মানুষকে তার প্রতিটি কাজের হিসাব দিতে হবে—তা প্রকাশ্য হোক কিংবা গোপন। নেক কাজের জন্য থাকবে পুরস্কার এবং পাপকর্মের জন্য শাস্তি। তবে ক্ষমা করা সম্পূর্ণ আল্লাহর ইচ্ছাধীন।
আল্লাহ আরও বলেন, “যে সৎকর্ম করে, সে নিজের কল্যাণের জন্যই করে এবং যে মন্দ কাজ করে, তার ফলও সে নিজেই ভোগ করবে। আপনার পালনকর্তা তাঁর বান্দাদের প্রতি কখনো জুলুম করেন না।” (সুরা হা-মিম সাজদা, আয়াত: ৪৬)।
নেক আমলকারীদের জন্য আল্লাহ জান্নাতুল ফেরদৌসের সুসংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের আতিথেয়তার জন্য জান্নাতুল ফেরদৌস প্রস্তুত রাখা হয়েছে।” (সুরা আল-কাহাফ, আয়াত: ১০৭)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) মানবজাতিকে অন্যায় ও অপকর্ম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “তোমাদের কেউ যদি অন্যায় কাজ দেখতে পায়, তবে সে যেন তা হাত দ্বারা প্রতিহত করে। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে মুখ দ্বারা নিষেধ করে। আর তাও সম্ভব না হলে অন্তরে ঘৃণা পোষণ করে। আর এটিই ঈমানের দুর্বলতম স্তর।” (মুসলিম শরিফ)।
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল কোনটি? উত্তরে তিনি বলেন, “যে আমল নিয়মিত করা হয়, যদিও তা অল্প হয়।” (বুখারি শরিফ, ৬৪৬৫)।
রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, “কোনো বান্দা অসুস্থ হলে অথবা সফরে থাকলে, সে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় যে আমল করত, তার সমপরিমাণ সওয়াব তার আমলনামায় লেখা হয়।” (বুখারি শরিফ)।
হাদিসে আরও এসেছে, কোনো ব্যক্তি নিয়মিত নেক আমল করার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে ফেরেশতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়, সে সুস্থ অবস্থায় যে আমল করত, তা যেন তার আমলনামায় লিখতে থাকে—যতক্ষণ না আল্লাহ তাকে সুস্থ করেন অথবা নিজের কাছে ডেকে নেন। (মিশকাত শরিফ, ১৫৫৯)।
আল্লাহতায়ালা ঈমানদার ও নেককার বান্দাদের সুসংবাদ দিয়ে বলেন, “যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্য রয়েছে এমন জান্নাত, যার নিচ দিয়ে ঝরনা প্রবাহিত হবে। সেখানে যখনই তাদের ফল দেওয়া হবে, তারা বলবে—এ তো আমরা আগেও পেয়েছিলাম। অথচ তাদের নতুনভাবেই তা দেওয়া হবে। সেখানে তাদের জন্য থাকবে পবিত্র সঙ্গী এবং তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে।” (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৫)।
আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে বেশি বেশি নেক আমল করার তাওফিক দান করুন এবং জান্নাত লাভের সৌভাগ্য দান করুন। আমিন।
লেখক : এম এ মান্নান
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



