অভিনেত্রী হংসিকা মোতওয়ানি সম্প্রতি স্বামী সোহেল খাটুরিয়ার সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খুলেছেন। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বিয়ের প্রায় তিন বছর পর, ২০২৬ সালের মার্চে তাঁদের ডিভোর্স মঞ্জুর হয়।

অভিনেত্রী হংসিকা মোতওয়ানি (Hansika Motwani) সম্প্রতি স্বামী সোহেল খাটুরিয়ার সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খুলেছেন। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বিয়ের প্রায় তিন বছর পর, ২০২৬ সালের মার্চে তাঁদের ডিভোর্স মঞ্জুর হয়। জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই থেকেই তাঁরা আলাদা থাকছিলেন এবং পরে পারস্পরিক সিদ্ধান্তে আলাদা হওয়ার পথ বেছে নেন।
এক সাক্ষাৎকারে হংসিকা মোতওয়ানি জানান, এই বিচ্ছেদ নিয়ে তাঁর কোনও আফসোস নেই। তিনি বলেন, “মানুষ ক্লিকবেট চেয়েছিল, পেয়েছে। আমি কখনও কিছু ব্যাখ্যা করিনি, করবও না কারণ সেটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।”
নিজের সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে মনে করে তিনি বলেন, “ভুল ট্রেনে চড়ে কষ্ট পাওয়ার চেয়ে মাঝপথে নেমে যাওয়াই ভালো। আমার কোনও আফসোস নেই। আমি এখন যেখানে আছি, সেটাই ঠিক আছে।”
মায়ের একটি পরামর্শ তাঁর জীবনে বড় ভূমিকা নিয়েছে। হংসিকার কথায়, “মা বলেছিল, ‘তোমার কষ্ট অন্য কারও বিনোদন হতে পারে না।’ তাই আমি কষ্টের সময় কাউকে কিছু বুঝতে দিইনি।”
এই কঠিন সময়ে তাঁর মা ও ভাই সবসময় পাশে ছিলেন। হংসিকা মোতওয়ানি বলেন, “আমার ভাই আমার খুব কাছের। সে সবসময় আমাকে সমর্থন করেছে। মা আর ভাই দু’জনেই বলেছিল, যদি তুমি স্বচ্ছন্দ না হও, তাহলে সেটা মেনে নেওয়ার দরকার নেই।”
তিনি আরও জানান, পরিবারের লোকজন তাঁকে খুব খারাপ মানসিক অবস্থায় দেখেছেন। “আমি সাধারণত খুব হাসিখুশি মানুষ, তাই আমাকে ওই অবস্থায় দেখে ওরা চিন্তিত হয়ে পড়েছিল। তবে সবসময় বলেছে, তুমি যা সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা তোমার পাশে আছি।”
বিয়ের ভাঙনের কারণ নিয়ে তিনি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখতে চান। তাঁর কথায়, “আজও কেউ জানে না আমাদের মধ্যে কী হয়েছিল, এটাই ভালো। দু’জন মানুষের মধ্যে কী ঘটে, তা শুধু তারাই জানে।”
গত দুই বছরে মানসিকভাবে ভীষণ কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গেছেন হংসিকা । তিনি বলেন, “আমি খুব অন্ধকার এক সময়ে ছিলাম, তখন মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে কিছুই বুঝতাম না। এক বন্ধু আমাকে থেরাপির পরামর্শ দেয়।”
এরপর থেকেই থেরাপি তাঁর জীবনে বড় পরিবর্তন আনে। “দুই বছর ধরে থেরাপি করছি, এবং এটা আমাকে অনেক ভালো মানুষ হতে সাহায্য করেছে। আগে যেসব পরিস্থিতি সামলাতে পারতাম না, এখন সেগুলো সামলাতে পারি।”
এই সময়ে আধ্যাত্মিকতাও তাঁকে ভরসা জুগিয়েছে। ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় বিশ্বাস থাকলেও গত আড়াই বছরে তা আরও গভীর হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি হনুমানজির প্রার্থনা শুরু করি। আধ্যাত্মিকতা আর হনুমানজির আশীর্বাদ ছাড়া এই সময়টা পার করতে পারতাম না।”
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
‘ভালোবাসায় এখনও বিশ্বাস আছে’
ব্যক্তিগত জীবনের এই কঠিন অভিজ্ঞতার পরও হাঁসিকা ভালোবাসার প্রতি আস্থা হারাননি। তাঁর কথায়, “আমি ভালোবাসায় বিশ্বাস করি। ভালোবাসা খুব সুন্দর। কখন সঠিক সময় আসবে জানি না, সময়ই পথ দেখাবে। যা আমার জন্য লেখা, তা হবেই।”
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



