বিনোদন ডেস্ক : নেপালের পোখারায় বিধ্বস্ত ইয়েতি এয়ারলাইন্সের বিমানটি অবতরণের আগ মুহূর্তে ল্যান্ডিং প্যাড পরিবর্তনের অনুমতি চেয়েছিল। অনুমতি দেয়া হলেও শেষমেশ আর অবতরণ করতে পারেনি বিমানটি। তবে শেষ মুহূর্তে ল্যান্ডিং প্যাড বদলের দরকার কেন হয়েছিল তা নিয়ে শুরু হয়েছে গুঞ্জন।

নেপালের বিমান

Advertisement

নেপালের স্থানীয় পত্রিকা ইকান্তিপুর তাদের এক প্রতিবেদনে বলছে, বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটির রানওয়ে-৩০-এ অবতরণের কথা ছিল। একই পাইলট ও ক্রু সমেত বিমানটি একই রানওয়েতে ওই দিন সকালবেলাতেও একবার অবতরণ করেছিল। তবে, শেষ মুহূর্তে বিমানটি রানওয়ে-১২-তে অবতরণের অনুমতি চায়।

রোববার ৭২ জন আরোহী নিয়ে ইয়েতি এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমান পোখারায় বিধ্বস্ত হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৬৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বিমানটিতে আরোহী সবাই নিহত হয়েছে বলে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

নেপালের সেনাবাহিনী জানায়, রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে জীবিত উদ্ধার করা হয়নি। রোববার সন্ধ্যার পর উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়। বিমান দুর্ঘটনার পর সোমবার জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে দেশটিতে।

কাঠমাণ্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বলছে, সবশেষ বিমানটি নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পশ্চিম দিক থেকে অবতরণের মাত্র ২ মিনিট আগে ট্রাফিক এয়ার কন্ট্রোলের সাথে যোগাযোগ করে। আর তার পরপরই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয় সময় বেলা ১০টা ৫৩ মিনিটে এটি বিমানবন্দরে অবতরণের কথা ছিল।

বিবিসি নেপালি তাদের প্রতিবেদনে বলছে, বিমানটির পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টন কামাল কে সি। যিনি রোববারই আরেকটি ফ্লাইট নিয়ে কাঠমান্ডু থেকে পোখারায় গেছেন। ইয়েতি এয়ারলাইন্স বলছে, সম্প্রতি চালু হওয়া পোখারা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে এর আগে পরীক্ষামূলক উড্ডয়নও করেছেন তিনি।

কর্মকর্তারা বলছেন, অবতরণের বিষয়ে বিমানবন্দর থেকে অনুমতিও পেয়েছিলেন পাইলট। তখনো পর্যন্ত কোনো সমস্যা ছিল না।

‘বিমানটি স্রেফ পড়ে যায়’

অবতরণের জন্য ‘ক্লিয়ারেন্স’ বা অনুমতি পাওয়ার পর বিমানটি বিমানবন্দর থেকে দৃশ্যমানও হয়েছিল এবং ১০-২০ সেকেন্ডের মধ্যে সেটি রানওয়েতে পৌঁছানোর কথা ছিল। বিমানবন্দরে থাকা একজন ট্রাফিক কন্ট্রোলার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিসি নেপালি-কে বলেন, মোড় নেয়ার সময় যখন ল্যান্ডিং গিয়ারটি খুলে, তখনই বিমানটি ‘স্থির’ হয়ে যায়।

বিমানযাত্রায় ‘স্থির’ মানে হচ্ছে কোনো বিমান তার উচ্চতা ধরে রাখতে পারে না। অর্থাৎ সেটি আর আকাশে ভেসে থাকতে পারে না। তিনি বলেন, কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে যতদূর দেখা যায় সে পর্যন্তই বিমানটি নিচে নেমে আসে।

পোখারা বিমানবন্দরের মুখপাত্র বিষ্ণু অধিকারী বলেন, রোববার আবহাওয়া পরিষ্কার ছিল এবং ফ্লাইটগুলোও নিয়মিতই চলছিল। তিনি বলেন, নতুন বিমানবন্দরে ফ্লাইটে কোনো সমস্যা ছিল না। সেগুলো নিয়মিতই ছিল। আজ আবহাওয়াও পরিষ্কার।

পশ্চিম মোহাদা থেকে অবতরণের সময় দুর্ঘটনা

গত পহেলা জানুয়ারি থেকে চালু হওয়া পোখারা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে পূর্ব এবং পশ্চিম দিক থেকে বিমানগুলো অবতরণ করে থাকে। পূর্ব দিক থেকে অবতরণের জন্য রানওয়ে থ্রি জিরো এবং পশ্চিম দিক থেকে অবতরণের ক্ষেত্রে রানওয়ে ওয়ান টু ব্যবহার করতে বিমানগুলোকে বলা হয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি ভিএফআর বা ভিজ্যুয়াল ফ্লাইট রুলস প্রযুক্তি ব্যবহার করে অবতরণ করতে যাাচ্ছিল। ভিএফআর হচ্ছে- পরিষ্কার আবহাওয়ায় অবতরণের পদ্ধতি।

তিনি বলেন, বিমানটি যখন যোগাযোগ করে তখন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল তাদের থ্রি জিরো রানওয়ে ব্যবহারের অনুমতি দেয়। কিন্তু বিমানটি ১৫ মাইলের মধ্যে আসার পর সেটি রানওয়ে ওয়ান টু ব্যবহারের অনুমতি চায়।

বিমানবন্দরের মুখপাত্র বিষ্ণু অধিকারী বলেন, বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ সম্পর্কে তদন্তের পর জানা যাবে। বিমানবন্দরের কোনো কারিগরি ত্রুটি ছিল কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি এটা বলেন। ‘আমরা এখনই কিছু বলতে পারছি না। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখার পর বলা যাবে।’

পোখারায় বিমান বিধ্বস্তের প্রকৃত কারণ জানতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার। বিমান দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে অভ্যন্তরীণ সব এয়ারলাইন্সকে উড্ডয়নের আগে বিমান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা যা বলছেন

বিবিসি নেপালি সার্ভিসকে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, মনে হচ্ছিল বিমানটি অবতরণের আগে মোড় নিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে। বিবিসি আরো কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাথে কথা বলেছে এবং তারা সবাই বলেছে, দুর্ঘটনাটি এতো হঠাৎ করে ঘটেছে যে তারা কিছু বুঝেই উঠতে পারেননি।

৪৩ বছর বয়সী কামলা গুরুং বলেন, আমার চোখের সামনে আমি বিমানটি পুড়ে যেতে দেখেছি। কামলা গুরুং ঘারিপাতান এলাকার বাসিন্দা যেখানে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানের জানালা, চায়ের কাপ এবং আরো পোড়া অংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে।

‘বোমার মতো বিস্ফোরণ হয়’

কামলা বলেন, দুর্ঘটনাটি দেখে শিশুরা ভয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসে। কামলা গুরুং বলেন, সকাল ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সব কিছু স্বাভাবিকই ছিল। বাসার ছাদে আমি শিশুদের সাথে রোদ পোহাচ্ছিলাম। বাড়ি থেকে সব সময়ই বিমানের উঠানামার শব্দ শোনা যায়। কিন্তু রোববার সকালে মাথার উপর দিয়ে যে বিমানটি উড়ে যাচ্ছিল তার শব্দটা ভিন্ন ছিল। আমি যখন এটা দেখলাম তখন এটি আছড়ে পড়েছে।

কামলা বলেন, এত ভয়ঙ্কর বিমান দুর্ঘটনা তিনি এর আগে আর কখনো দেখেননি। তিনি বলেন, যখন বিমানটি পড়লো তখন বিশাল শব্দ হয়। এরপর কিছুক্ষণ ধরে শুধু কালো ধোঁয়া দেখা গেলো। এরপর আগুন বাড়তে থাকে।

‘আরআরআর’ সিনেমার ঝুলিতে আরও দুইটি পুরস্কার

দুর্ঘটনাস্থল থেকে ২০০ মিটারের মধ্যে বেশ কয়েকটি উঁচু ভবন ছিল। আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বল বাহাদুর গুরুং বলেন, ‘সৌভাগ্যবশত’ বিমানটি এখানে বিধ্বস্ত হয়নি। বাহাদুর গুরুং বলেন, বিমানটি অনেক নিচ দিয়ে যাচ্ছিল। বিমানটি ঘাটের দিকে যাচ্ছিল আর তখনই এটা বোমার মতো বিস্ফোরিত হয়। পাশের জঙ্গলেও আগুন ধরে যায়। এর কিছুক্ষণ পরেই ইয়েতি এয়ারলাইন্সের বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Shamim Reza is an experienced journalist and sub-editor at Zoom Bangla News, with over 13 years of professional experience in the field of journalism. Known for his strong writing skills and editorial insight, he contributes to producing accurate, engaging, and well-structured news content. Born and brought up in Jashore, his background and experience shape his deep understanding of social and regional perspectives in news reporting.