প্রায় দুই বছর আগে দুর্ঘটনায় স্বামী আমির হোসেন লেদুকে হারান আয়েশা বেগম। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে চরম দুর্দশায় পড়ে যায় তার পরিবার। বাবাকে হারিয়ে এতিম হয়ে পড়ে তিন সন্তান- মো. সজিব, মো. সৌরভ ও মো. সবুজ। এরপর থেকেই অর্ধাহার-অনাহারে মানবেতর জীবন পার করছেন তারা।

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চরলক্ষ্মী গ্রামের একটি জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক এই চিত্র। অভাব-অনটনের কারণে কখনো শুধু পানি খেয়ে, আবার কখনো পঁচা ভাত খেয়েই সেহরি ও ইফতার করতে হচ্ছে আয়েশা বেগম ও তার সন্তানদের।
নামাজ শেষে পঁচা পান্তাভাত খেতে বসেন আয়েশা বেগম। অন্যদিকে বিদ্যুৎবিহীন ঘরে কুপি জ্বালিয়ে ছোট্ট চকিতে নীরবে বসে থাকে তার তিন সন্তান। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর দারিদ্র্যের কঠিন বাস্তবতা তাদের জীবনকে করে তুলেছে অসহায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিহত আমির হোসেন পেশায় ছিলেন পিকআপ চালক। অন্যের গাড়ি ভাড়া নিয়ে সবজি পরিবহন করে সংসার চালাতেন তিনি। ভয়াবহ বন্যায় এলাকার সব সবজিখেত পানিতে তলিয়ে গেলে তার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে জীবিকার তাগিদে গাছ টানার কাজ শুরু করেন।
২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর অন্যান্য দিনের মতো একটি পিকআপ ভাড়া নিয়ে গাছ উত্তোলনের কাজ করতে যান আমির হোসেন। কাজের সময় অসাবধানতাবশত একটি বড় গাছ তার ওপর ভেঙে পড়ে। গাছের চাপায় তার মাথা থেঁতলে যায় এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।
স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই আয়েশা বেগম ও তার সন্তানদের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। একদিকে প্রিয়জন হারানোর শোক, অন্যদিকে উপার্জনের কোনো পথ না থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছে পরিবারটির।
বিধবা আয়েশা বেগম বলেন, ‘দুই বছর আগে স্বামী হারাইছি। তিন সন্তান নিয়ে ঝুপড়ি ঘরে থাকি। বৃষ্টিতে ভিজি, রোদে শুকাই। আগে বাবা আমার খোঁজ নিত, কিন্তু প্রায় এক বছর আগে সেও মারা গেছে। এখন আমাদের দেখার কেউ নাই। সন্তানরা ভালো খাবার চায়, কিন্তু আমার সেই সামর্থ্য নাই। অনেক সময় পচা ভাত দিয়েই সেহরি-ইফতার করি।’
নিহত আমির হোসেনের ভাই মজিবুল হক বলেন, আমার ভাই মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী তিন ছেলেকে নিয়ে খুব কষ্টে দিন পার করছে। আমাদের নিজের অবস্থাও ভালো না, তাই নিয়মিত সহযোগিতা করতে পারি না। বিত্তবান মানুষ এগিয়ে এলে পরিবারটির উপকার হতো।
স্থানীয় সবজি ব্যবসায়ী মো. সিরাজ উদ্দিন বলেন, ‘আমির হোসেন খুব মিশুক ও হাসিখুশি মানুষ ছিল। তার মৃত্যুর পর তার পরিবারের কারও কাছে কোনো টাকা ছিল না। এলাকাবাসী টাকা তুলে তার কাফনের কাপড় কিনে দাফনের ব্যবস্থা করেছে। এখন তার স্ত্রী-সন্তানরা খুব মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের মাথা গোঁজারও স্থায়ী ঠাঁই নেই। সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান বলেন, আমি বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমরা খুব দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। যেহেতু পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে খাবারের কষ্টে আছে তাই আপাতত খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিব। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবো এবং আপনাদের বিষয়টি অবহিত করবো।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


