ইসলামে বিয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো মাসকে বিশেষভাবে উত্তম, সুন্নত বা ফজিলতপূর্ণ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়নি। শরিয়তের বিধান মেনে, হালাল ও সঠিক নিয়মে সম্পন্ন হলে বছরের যেকোনো মাসেই বিয়ে করা উত্তম এবং সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত।

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন—
“হে যুবক সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে, সে যেন অবশ্যই বিয়ে করে। কারণ বিয়ে দৃষ্টিকে অবনত করে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে না, সে যেন রোজা রাখে। কেননা রোজা তার জন্য ঢালস্বরূপ।”
(সহিহ বুখারি: ৫০৬৬; সহিহ মুসলিম: ১৪০০)
এ হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, ইসলামে বিয়ের গুরুত্ব সামর্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত, মাস বা সময়ের সঙ্গে নয়।
আরেক হাদিসে আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“মানুষ যখন বিয়ে করে, তখন সে তার ইমানের অর্ধেক পূর্ণ করে। অতএব অবশিষ্ট অংশের জন্য সে যেন আল্লাহভীতি অবলম্বন করে।”
(শুআবুল ইমান: ৫১০০)
অনেকে নবীজি (সা.) তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী হজরত আয়েশা (রা.)-কে শাওয়াল মাসে বিয়ে করার বিষয়টি উল্লেখ করে শাওয়াল মাসে বিয়েকে বিশেষ ফজিলতপূর্ণ বা সুন্নত মনে করেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো—শাওয়াল মাসে বিয়ের বিশেষ কোনো ফজিলত বা আলাদা গুরুত্ব সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে নির্ভরযোগ্য কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না।
নবীজি (সা.) শাওয়াল মাসের পাশাপাশি অন্যান্য মাসেও বিবাহ করেছেন। একইভাবে সাহাবায়ে কেরামদের যুগেও শাওয়াল মাসকে কেন্দ্র করে বিয়ের কোনো বিশেষ প্রবণতা বা গুরুত্ব দেখা যায়নি। যদি এটি সুন্নত বা মুস্তাহাব হতো, তাহলে সাহাবিরা অবশ্যই তা গুরুত্বসহকারে অনুসরণ করতেন।
সুতরাং শাওয়াল মাসে বিয়ে করাকে সুন্নত, মুস্তাহাব বা বিশেষ ফজিলতপূর্ণ মনে করার শরিয়তসম্মত কোনো ভিত্তি নেই। ইসলামে মূল বিষয় হলো—বিয়ে হালাল পদ্ধতিতে, সামর্থ্য অনুযায়ী এবং আল্লাহর বিধান মেনে সম্পন্ন করা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


