বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্বজুড়ে নানা উদ্যোগ চললেও সাম্প্রতিক গবেষণায় নতুন উদ্বেগের কথা সামনে এসেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর তাপমাত্রা শুধু বাড়ছেই না, বরং তা বাড়ার গতিও আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

আমেরিকান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক ম্যাগাজিন ‘পপুলার মেকানিক্স’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তির লক্ষ্যগুলো এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের আগেই বিশ্ব তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঝুঁকিপূর্ণ সীমা অতিক্রম করতে পারে। অথচ প্যারিস চুক্তিতে দেশগুলো একমত হয়েছিল, প্রাক-শিল্পায়ন যুগের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবে।
বর্তমানে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা ইতোমধ্যেই সেই সীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তাই বিজ্ঞানীদের মতে, এ লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং দশকের শেষের আগেই স্থায়ীভাবে এই সীমা অতিক্রমের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে উষ্ণতা বৃদ্ধির হারও বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।
বিজ্ঞান সাময়িকী ‘জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্স’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় এ বিষয়টি উঠে এসেছে। নাসা ও নোয়া-সহ পাঁচটি বড় প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান। জার্মানির পটসডাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চের গবেষক স্টিফান রামস্টর্ফ জানান, এল নিনো, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও সৌরশক্তির মতো প্রাকৃতিক প্রভাবগুলো আলাদা করে বিশ্লেষণ করেই প্রকৃত উষ্ণতার হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, গত এক দশকে পৃথিবীর তাপমাত্রা গড়ে ০.৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হারে বেড়েছে। অথচ ১৯৭০ সাল থেকে সাধারণত এই হার ছিল প্রায় ০.২ ডিগ্রি। অর্থাৎ, উষ্ণতা বৃদ্ধির গতি স্পষ্টভাবেই বেড়েছে, যা জলবায়ু সংকট মোকাবিলার সময়সীমাকে আরও সংকুচিত করছে।
রামস্টর্ফ জানান, ২০১৫ সালের পর থেকেই উষ্ণায়নের গতি বাড়ার প্রবণতা স্পষ্ট, এবং বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণে এ বিষয়ে ৯৮ শতাংশের বেশি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এল নিনো এবং সূর্যের ‘সোলার ম্যাক্সিমাম’-এর মতো প্রাকৃতিক ঘটনাগুলোও তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। তবে এসব প্রভাব হিসাব থেকে বাদ দেওয়ার পরও দেখা গেছে, উষ্ণতা বাড়ার গতি থেমে নেই।
অন্য গবেষণাগুলোতে যেখানে প্রতি দশকে ০.২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস হারে উষ্ণতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছিল, সেখানে নতুন গবেষণায় তা ০.৩৫ ডিগ্রিতে পৌঁছানোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। যদিও ‘বার্কলে আর্থ’-এর প্রধান বিজ্ঞানী রবার্ট রোডে মনে করেন, এ হিসাব কিছুটা ভিন্ন হতে পারে, তবে তিনিও স্বীকার করেছেন যে উষ্ণতা বৃদ্ধির হার ০.৩০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছানোর ঝুঁকি রয়েছে।
গবেষকদের মতে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের আগেই প্যারিস চুক্তির নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করা প্রায় অনিবার্য। ভবিষ্যতে পৃথিবীর উষ্ণতা কত দ্রুত বাড়বে, তা নির্ভর করবে আমরা কত দ্রুত জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নির্গত কার্বন ডাইঅক্সাইড কমাতে পারি তার ওপর।
তথ্য সূত্র- ইন্টার প্রেস সার্ভিস
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


