দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছে নরওয়ে। তাই দেশটির ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বইছে আনন্দের জোয়ার। অনেকের চোখ স্বাভাবিকভাবেই তারকা গোলদাতা আর্লিং হালান্ডের দিকে থাকলেও এবারের নরওয়ে দল কেবল একজন খেলোয়াড়নির্ভর নয়। প্রধান কোচ স্টেলে সোলবাকেন গড়ে তুলেছেন ভারসাম্যপূর্ণ ও প্রতিযোগিতামূলক একটি দল, যেখানে প্রতিটি বিভাগেই রয়েছে মানসম্পন্ন খেলোয়াড়।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন হালান্ড। আট ম্যাচে তিনি ১৬টি গোল করে দলের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর মধ্যে মলদোভার বিপক্ষে পাঁচ গোল এবং ইসরায়েলের বিপক্ষে একটি হ্যাটট্রিকও রয়েছে। তবে হালান্ডের সাফল্যের পেছনে রয়েছে তার সতীর্থদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
আক্রমণভাগে হালান্ডকে সহায়তা করতে প্রস্তুত তরুণ উইঙ্গার আন্তোনিও নুসা। গতি, ড্রিবলিং এবং সুযোগ তৈরি করার দক্ষতায় ইতোমধ্যে তিনি নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। ইতালির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গোল ও গোল করানোর মাধ্যমে আলোচনায় আসেন এই তরুণ। বাম প্রান্তে বিকল্প হিসেবে রয়েছেন আন্দ্রেয়াস শিয়েলদারুপ, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ ছন্দে আছেন।
ডান প্রান্তে চমক হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে আলেকজান্ডার সরলথকে। লম্বা গড়ন ও শারীরিক শক্তির কারণে তিনি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য বড় হুমকি। পাশাপাশি অস্কার বব ও জেন্স পেটার গেওয়ের মতো প্রতিভাবান ফুটবলাররা দলের আক্রমণভাগকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন।
মাঝমাঠে নরওয়ের সবচেয়ে বড় ভরসা অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড। খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ, নিখুঁত পাস এবং সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে তার জুড়ি মেলা ভার। ইনজুরির কারণে কয়েকটি ম্যাচ মিস করলেও বাছাইপর্বে ইউরোপের সর্বোচ্চ সাতটি গোল করানোর কৃতিত্ব ছিল তার। তাকে সহায়তা করবেন সান্দার বার্গ এবং অভিজ্ঞ ফ্রেডরিক আউর্সনেস।
হালান্ড কোনো কারণে মাঠের বাইরে থাকলেও গোলের জন্য বিকল্প রয়েছে নরওয়ের হাতে। জর্গেন স্ট্র্যান্ড লারসেন সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। এছাড়া সরলথও নিয়মিত গোল করার সক্ষমতা রাখেন। ফলে একজন খেলোয়াড়কে ঘিরে পুরো আক্রমণভাগ আটকে নেই।
রক্ষণভাগে নরওয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হতে পারেন জুলিয়ান রিয়ারসন। ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠা, নিখুঁত ক্রস এবং স্থির বল থেকে সুযোগ তৈরি করার ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত কার্যকর। তার উপস্থিতি নরওয়ের আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই বিভাগেই বাড়তি শক্তি যোগ করবে।
বিশ্বকাপের কঠিন এক গ্রুপে পড়েছে নরওয়ে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স, সেনেগাল ও ইরাক। তবুও দলটির আত্মবিশ্বাসে কোনো ঘাটতি নেই। দীর্ঘদিন পর বিশ্বকাপে ফেরার আনন্দে সমর্থকদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে ব্যাপক উন্মাদনা।
নরওয়ে হয়তো শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার নয়, কিন্তু হালান্ড, ওডেগার্ড, নুসা ও সরলথদের নিয়ে গড়া এই দলটি যে বিশ্বের যেকোনো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। ব্যক্তিগত মেধা, দলীয় সমন্বয় এবং আত্মবিশ্বাসের সমন্বয়ে নরওয়ে এবার বিশ্বকাপে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের নতুন অধ্যায় রচনার স্বপ্ন দেখছে।
সূত্র: গোলডটকম
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



