বজ্রপাত শুধু আকাশেই সীমাবদ্ধ নয়, এর প্রভাব মহাকাশ পর্যন্ত পৌঁছায়—এই বিষয়টি জানতেই নতুন গবেষণা শুরু করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। এ জন্য একটি ক্ষুদ্র উপগ্রহ পাঠানো হয়েছে, যার নাম ক্যানভাস।

২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল ভ্যান্ডেনবার্গ মহাকাশ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে মিনোটর ফোর নামের রকেটের মাধ্যমে এই উপগ্রহটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এটি ছোট আকারের একটি কৃত্রিম উপগ্রহ হলেও এর কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি খুব নিম্ন কম্পাঙ্কের বেতার তরঙ্গ পর্যবেক্ষণ করবে, যা বজ্রপাত ও স্থলভিত্তিক যন্ত্র থেকে উৎপন্ন হয়।
এই উপগ্রহ পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে দেখবে, কীভাবে এসব সংকেত আয়নমণ্ডল—অর্থাৎ পৃথিবীর উপরের বিদ্যুৎ পরিবাহী স্তর—অতিক্রম করে চৌম্বকমণ্ডলে পৌঁছে যায়। এর মাধ্যমে বোঝা যাবে, শক্তি কীভাবে পৃথিবী থেকে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে।
ক্যানভাসে দুটি প্রধান যন্ত্র রয়েছে—একটি তিন অক্ষের চৌম্বক পরিমাপক এবং একটি দুই অক্ষের বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র পরিমাপক। এগুলোর সাহায্যে তরঙ্গের শক্তি ও দিক নির্ণয় করা হবে। পরে এই তথ্য পৃথিবীর বজ্রপাতের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে একটি বৈশ্বিক চিত্র তৈরি করা হবে।
গবেষকদের মতে, এই তরঙ্গগুলো পৃথিবীর চারপাশে থাকা উচ্চ শক্তির কণার বলয়কে প্রভাবিত করে। এর ফলে শক্তিশালী কণাগুলো ছড়িয়ে পড়ে এবং মহাকাশের পরিবেশে পরিবর্তন আসে।
এই গবেষণা মহাকাশের পরিবেশ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা দিতে সাহায্য করবে, যা উপগ্রহ ও মহাকাশযানের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ভবিষ্যতে উপগ্রহ রক্ষা করা এবং নভোচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে। এক বছরের এই অভিযানে ক্যানভাস বিশ্বজুড়ে তথ্য সংগ্রহ করবে, যা ভবিষ্যৎ গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


