২৫ জুন চাঁদপুরের মতলব উত্তরের হানিরপাড় এলাকার একটি নির্জন কলাবাগান থেকে নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

চাঁদপুরের মতলব উত্তরের একটি কলাবাগানে নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, মায়ের একাধিক বিয়ের কারণে ছোটবেলা থেকে স্নেহবঞ্চিত হওয়ার ক্ষোভ থেকে তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌর এলাকার মুল্লুক মাঝির কান্দি গ্রাম থেকে ওই নারীর ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে রাতে মতলব উত্তর থানায় বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীব।
গ্রেপ্তার মো. জনি (৩০) উপজেলার পাঁচগাছিয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। তার মা মজিদা বেগমের তিনটি বিয়ে হয়েছে। তিনি প্রথম ঘরের সন্তান।
জনি মুল্লুক মাঝির কান্দি গ্রামের নানাবাড়িতে থেকেই বড় হয়েছেন। এখন ঢাকায় ফলের ব্যবসা করেন।
সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীব বলেন, গত ২৫ জুন সকালে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে কলাকান্দা ইউনিয়নের হানিরপাড় এলাকার একটি নির্জন কলাবাগান থেকে নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আনুমানিক ৫০ বছর বয়সী ওই নারীর মরদেহের মাথার খুলি থেকে চুল খসে গিয়েছিল এবং বাম হাত ও হাঁটুর নিচ থেকে বাম পায়ের অংশ শিয়াল খেয়ে ফেলায় মরদেহটি বিকৃত হয়ে গিয়েছিল।
ঘটনাস্থলে পুলিশ, পিবিআই ও সিআইডি কাজ শুরু করলেও তাৎক্ষণিকভাবে মৃত নারীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানায়, মামলাটি সম্পূর্ণ ক্ল্যুলেস হওয়ায় চাঁদপুরের নবাগত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীবের নেতৃত্বে এবং মতলব উত্তর থানার ওসি মো. কামরুল হাসানের তত্ত্বাবধানে এসআই সাদেক, এসআই মিজান, এসআই রেজাউল ও এএসআই রবিউলকে নিয়ে একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হয়।
তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় লোকেশন বিশ্লেষণ, ম্যানুয়াল সোর্সিং এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে একপর্যায়ে মো. জনির ওপর সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
পরে বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। জানা যায়, নিহত নারী তার মা মজিদা বেগম।
এতে মরদেহ উদ্ধারের আট দিনের মাথায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয় থানা পুলিশ।
পরে জনির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত ও একটি পুকুর থেকে নিহতের মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
জনির জবানবন্দীর বরাতে জাবীর হুসনাইন সানীব বলেন, “ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক নানা কারণে মা মজিদা বেগমের প্রতি ক্ষোভ পোষণ করতেন জনি। তার দাবি, মা একাধিক বিয়ে করায় তিনি বাবা-মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়ে মামার বাড়িতে অবহেলা ও কষ্টের মধ্যে বড় হয়েছেন।
“সেই ক্ষোভ থেকেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে ১৭ জুন তিনি তার মাকে ছেংগারচর বাজার থেকে অটোরিকশায় কলাকান্দা ইউনিয়নের ওই কলাবাগানে নিয়ে যান। সেখানে কলাবাগানের দুই আইলের মাঝখানে জমে থাকা পানিতে চেপে ধরে মাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।”
সহকারী পুলিশ সুপার আরও বলেন, “এই মামলাটি আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। দিন-রাত পরিশ্রম করে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের সমন্বয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই রহস্য উদ্ঘাটন ও প্রকৃত আসামিকে গ্রেপ্তার করা গেছে।
“এ ধরনের জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।”
মতলব উত্তর থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, “ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ ক্ল্যুলেস। কোনো পরিচয় ছিল না, কোনো প্রত্যক্ষদর্শীও ছিল না। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠপর্যায়ের নিরলস তদন্তের মাধ্যমে আমরা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি।”
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
রাতেই জনির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে, শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করা হবে বলেও জানান ওসি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



