থানকুনি পাতা আমাদের দেশের পরিচিত একটি ভেষজ উদ্ভিদ। গ্রামাঞ্চলে এ পাতার ব্যবহার প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে। ছোট গোলাকার এই পাতার মধ্যে রয়েছে অসংখ্য ওষুধি গুণ। থানকুনি পাতার রস ও প্রক্রিয়াজাতকৃত পণ্য নানা রোগের নিরাময়ে কার্যকর। খাদ্য বা হোম রেমেডিতে নিয়মিত ব্যবহার করলে শরীরের বিভিন্ন সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। অঞ্চলভেদে থানকুনি পাতাকে আদামনি, তিতুরা, টেয়া, মানকি, থানকুনি, আদাগুনগুনি, ঢোলামানি, থুলকুড়ি, মানামানি, ধূলাবেগুন নামে ডাকা হয়।

১. চুল পড়া কমায়
সপ্তাহে ২-৩ বার থানকুনি পাতা খেলে স্কাল্পের পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়। চুলের জন্য আরও কার্যকর পদ্ধতি হলো থানকুনি পাতা, তুলসি পাতা ও আমলার মিশ্রণ দিয়ে পেস্ট তৈরি করে চুলে ১০ মিনিট লাগানো।
২. শরীর থেকে টক্সিন বের করে
প্রতিদিন সকালে অল্প পরিমাণ থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে ১ চামচ মধু মিশিয়ে খেলে রক্তের ক্ষতিকর উপাদান বের হয় এবং বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ হয়।
৩. ক্ষতের দ্রুত চিকিৎসা
কোথাও কেটে গেলে থানকুনি পাতা বেঁটে ক্ষতস্থলে লাগালে নিমেষে ব্যথা কমে।
৪. হজম ক্ষমতা বাড়ায়
থানকুনি পাতায় থাকা উপাদান হজমে সহায়তা করে এবং বদহজম ও গ্যাস সমস্যার উন্নতি ঘটায়।
৫. ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে
অ্যামিনো অ্যাসিড, বিটা ক্যারোটিন, ফ্যাটি অ্যাসিড ও ফাইটোকেমিকাল ত্বকের পুষ্টির ঘাটতি দূর করে এবং বলিরেখা কমাতে সাহায্য করে।
৬. আমাশয়ের সমস্যা কমায়
সকালে খালি পেটে থানকুনি পাতা খেলে আমাশয়ের সমস্যা কমে। পাতা বেটে চিনি মিশিয়ে দিনে দুইবার খাওয়াও কার্যকর।
৭. পেটের অন্যান্য রোগে সহায়তা করে
আমগাছের ছাল, আনারসের পাতা, হলুদের রস এবং থানকুনি পাতা মিশিয়ে খেলে পেটের অসুখ ও ক্রিমির প্রভাব কমে।
৮. কাশি কমায়
২ চামচ থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে অল্প চিনি মিশিয়ে খেলে কাশি কমে। এক সপ্তাহ নিয়মিত খেলে কাশির সমস্যা দূর হয়।
৯. জ্বর কমাতে সাহায্য করে
১ চামচ থানকুনি ও ১ চামচ শিউলি পাতার রস মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে সিজনাল জ্বর কমে এবং শরীরের দুর্বলতাও কমে।
১০. গ্যাস্ট্রিক সমস্যা দূর করে
হাফ লিটার দুধে ২৫০ গ্রাম মিশ্রি ও অল্প থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খান। এক সপ্তাহে গ্যাস্ট্রিক সমস্যা অনেকটা কমে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


