সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার গোলড়া মৌজায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিরোধপূর্ণ জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, গোলড়া গ্রামের বাসিন্দা মোছা. ময়ূরজান বেগম (স্বামী-মৃত নাজিম উদ্দিন ওরফে নজুমদ্দিন) জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০২২ সালে আদালতে একই গ্রামের মৃত ফজলুল করিমের ছেলে নুরুল আমিন মুকুল, মৃত সামছুল হক মাস্টারের ছেলে বাশিরুল হক, নুরুল হকের ছেলে আব্দুল মতিন, আব্দুল রকিব ঝুমুর ছেলে মো. শাহীন ও সম্রাট মিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলা আমলে নিয়ে উভয় পক্ষকে বিরোধপূর্ণ জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। তবে মামলার বিবাদীপক্ষ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বিরোধপূর্ণ জমিতে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করেন। এ বিষয়ে পুলিশকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও পুলিশ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
পরবর্তীতে একই বিরোধকে কেন্দ্র করে চলতি বছর একই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আবারও পিটিশন মামলা নং–৬৯ (সাটু)/২০২৬ দায়ের করেন ময়ুরজান বেগম। মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারা জারি করেন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আদালতের স্মারক নং–১৮৩/২৬ অনুযায়ী সাটুরিয়া থানা থেকে উভয় পক্ষকে নোটিশ দিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ ও কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের নির্দেশে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট জমিতে কোনো পক্ষই যেন প্রবেশ না করেন এবং স্থাপনা নির্মাণসহ এমন কোনো কাজ না করেন, যাতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, আদালতের ওই নির্দেশ অমান্য করে বিবাদীপক্ষ বিরোধপূর্ণ জমিতে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিরোধপূর্ণ জমিতে বাদির স্থাপনা ভেঙে দিয়ে বিবাদীপক্ষ স্থাপনা নির্মাণ কাজ করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উক্ত জমি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে এবং এ বিষয়ে একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে একই বিষয়ে বিবাদীপক্ষের এক আত্মীয়ের করা একটি মামলা আদালত খারিজ করে দেন। অপর একটি মামলায় বাদী পক্ষের অনুকূলে রায় ঘোষণা করা হয়।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, ওই দুই মামলায় জয়ী হওয়ার পর ২০২২ সালে সাটুরিয়া কোর্টে পিটিশন মামলা দায়ের করা হলে আদালত উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু বিবাদীপক্ষ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বিরোধপূর্ণ জমিতে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করেন। পরে আবারও পাশের অন্য জমি দখলের চেষ্টা করলে চলতি বছর নতুন করে মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে নতুন মামলার প্রেক্ষিতে আদালত ১৪৪/১৪৫ ধারা জারি করে জমিতে সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও অভিযোগ রয়েছে, বিবাদীপক্ষ নির্দেশনা উপেক্ষা করে পুনরায় সেখানে স্থাপনা নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি সাটুরিয়া থানার পুলিশকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন বাদীপক্ষ।
মামলার বাদি পক্ষের মো. নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ওয়ারিশ সূত্রে এই জমির মালিক আমরা। বিবাদীরা জোরপূর্বক এই জমি দখল করে নিচ্ছে। আদালদের নিষেধাজ্ঞাও মানছে না তারা। তাদের স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে পুলিশ এসে নোটিশ দিয়ে গেলেও তারা সেটি আমলে নেয়নি। আদালদের নির্দেশ উপেক্ষা করে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি পুলিশকে অবগত করলেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনা।
এ বিষয়ে বিবাদী পক্ষের নুরুল আমিন মুকুলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ওটা আমার জমি, আমি নিয়মিত ওই জমির খাজনা পরিশোধ করছি। ওখানে আগে কাজ করা হচ্ছিল। তবে আদালতের নোটিশ পাওয়ার পর কোন কাজ করা হচ্ছেনা। শুধুমাত্র কাজের জিনিষপত্র ও সেন্টারিং এর মালপত্র গুছিয়ে রাখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, বাদির কি আর্জি ছিল এবং কোর্টের আদেশে কি বলা হয়েছে এটা না দেখে বিস্তারিত বলা যাবেনা।আদেশটা একটু দেখতে হবে। কি আদেশ আছে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


