অনেকের কাছে সূর্য মানে শুধু আলো ও তাপের উৎস। কিন্তু কখনো কখনো সূর্যের আচরণ এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে, তার প্রভাব এসে পড়ে পৃথিবীর যোগাযোগ ও প্রযুক্তি ব্যবস্থায়। সম্প্রতি ঠিক তেমনই এক ঘটনার কথা জানিয়েছে নাসা। সংস্থাটির তথ্যমতে, সূর্য থেকে একসঙ্গে চারটি শক্তিশালী সৌর ফ্লেয়ার বা সৌর বিস্ফোরণ নির্গত হয়েছে, যার মধ্যে একটি ছিল X8.1 শ্রেণির—২০২৬ সালের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী সৌর ফ্লেয়ার।

নাসা জানায়, ১ ফেব্রুয়ারি সূর্য থেকে পরপর তিনটি শক্তিশালী ফ্লেয়ার নির্গত হয়। সেগুলো ধরা পড়ে সকাল ৭টা ৩৩ মিনিট, সন্ধ্যা ৬টা ৩৭ মিনিট এবং সন্ধ্যা ৭টা ৩৬ মিনিটে (ইস্টার্ন টাইম অনুযায়ী)। এরপর ২ ফেব্রুয়ারি ভোর ৩টা ১৪ মিনিটে আরও একটি সৌর ফ্লেয়ার শনাক্ত করা হয়। এই চারটি ফ্লেয়ারের শক্তিমাত্রা ছিল যথাক্রমে X1.0, X8.1, X2.8 এবং X1.6।
নাসার সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, এ ধরনের শক্তিশালী সৌর ফ্লেয়ার ও সৌর বিস্ফোরণ পৃথিবীর রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ গ্রিড এবং নেভিগেশন সিস্টেমে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে HF রেডিও বা দীর্ঘপাল্লার রেডিও যোগাযোগে কিছু অঞ্চলে সাময়িকভাবে সিগন্যাল দুর্বল হয়ে যেতে পারে কিংবা যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সৌর ফ্লেয়ার সরাসরি মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। কারণ পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র ও বায়ুমণ্ডল সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর বিকিরণ থেকে মানুষকে সুরক্ষা দেয়। কিন্তু যদি শক্তিশালী জিওম্যাগনেটিক স্টর্ম সৃষ্টি হয়, তাহলে উচ্চক্ষমতার ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এর ফলে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি স্যাটেলাইট যোগাযোগ, জিপিএস ও নেভিগেশন ব্যবস্থাতেও সাময়িক সমস্যা তৈরি হতে পারে।
সূর্যের এই অস্বাভাবিক সক্রিয়তা তাই বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের বাড়তি নজরে রাখছে বলে জানিয়েছে নাসা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


