দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা ও রমজানের ত্যাগ তিতিক্ষার পর মুসলিম উম্মাহর ঘরে এসেছে পবিত্র ঈদুল ফিতর (Eid-ul-Fitr 2026)। ধর্মীয় পরিভাষায় এই দিনটিকে ‘ইয়াওমুল জায়েজ’ (Day of Reward) বা পুরস্কারের দিবস হিসেবে অভিহিত করা হয়। ঈদের আনন্দকে পূর্ণতা দিতে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। নিচে ঈদুল ফিতরের প্রধান ১০টি সুন্নাহ আমল তুলে ধরা হলো।

১. সাদাকাতুল ফিতর আদায় (Paying Sadakatul Fitr)
ঈদের আনন্দ গরিব ও দুস্থদের সাথে ভাগ করে নিতে ঈদের নামাজের পূর্বেই সাদকাতুল ফিতর (Paying Fitra/Sadakatul Fitr) আদায় করা ফরজ। এটি ঈদের অন্যতম প্রথম সুন্নাহ আমল। যাতে করে দরিদ্ররাও ঈদের আনন্দে শরিক হতে পারে।
২. ঈদের সালাত কিছুটা বিলম্বে পড়া (Delayed Eid Prayer)
ঈদুল ফিতরের নামাজ (Eid-ul-Fitr Prayer) কিছুটা বিলম্বে পড়া সুন্নত। যাতে করে মুসল্লিরা ধীরস্থিরভাবে সাদকাতুল ফিতর আদায় করার সময় পান। অন্যদিকে, ঈদুল আজহার নামাজ (Delayed Eid al-Adha prayer) আগে পড়া সুন্নত, যাতে কোরবানির কাজ দ্রুত শুরু করা যায়।
৩. ঈদের চাঁদ দেখার পর থেকে তাকবির দেওয়া (Eid Takbir until Prayer)
ঈদের আগের দিন মাগরিবের পর (Chand Raat/Eid eve) থেকে ঈদের নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত উচ্চস্বরে তাকবির (Saying Takbir/Eid Takbeer) পাঠ করা সুন্নত। তাকবিরটি হলো— ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’
৪. ঈদের দিন সকালে গোসল করা (Early Eid Bath)
ঈদের দিন সকালে উত্তমরূপে গোসল করা (Bath before Eid/Early Eid bath) সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদের দিন সকালে গোসল করতেন। এটি ঈদের নামাজের প্রস্তুতি হিসেবেও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে।
৫. সুন্দর পোশাক পরিধান করা (Wearing Best Clothes)
ঈদের দিন নিজের কাছে থাকা সবচেয়ে সুন্দর পোশাক (Wearing best clothes/Eid outfits) পরিধান করা সুন্নত। তবে নতুন পোশাক পরার চেয়ে পরিষ্কার ও উত্তম পোশাক পরাই আসল কথা। এটি আনন্দের একটি বহিঃপ্রকাশ।
৬. আতর বা সুগন্ধি ব্যবহার করা (Applying Perfume/Attar)
ঈদের দিন পুরুষদের জন্য আতর বা সুগন্ধি ব্যবহার করা (Applying perfume/Attar) সুন্নত। এটি জামাতে যাওয়ার পূর্বে সুঘ্রাণ ছড়ায় এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) সুগন্ধি পছন্দ করতেন।
৭. মিষ্টি জাতীয় খাবার খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া (Eating Sweets before Eidgah)
ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে মিষ্টি জাতীয় খাবার (Eating sweets before Eid prayer) খেয়ে যাওয়া সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণত খেজুর খেয়ে ঈদগাহে যেতেন।
৮. ঈদগাহে যাওয়া ও আসার রাস্তা পরিবর্তন করা (Changing Eidgah Route)
ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া এবং ফেরার সময় অন্য রাস্তা দিয়ে আসা (Changing route for Eid prayer) সুন্নত। এটি বেশি সংখ্যক মানুষকে শুভেচ্ছা জানানো এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) এর অনুকরণ।
৯. নিরাপদ ব্যবস্থাপনা থাকলে নারী-শিশুদের অংশগ্রহণ (Women and Children at Eidgah)
যদি ঈদগাহে নিরাপদ ও আলাদা পর্দা ব্যবস্থাপনা (Separate area for women/Women at Eidgah) থাকে, তবে নারী-শিশুদেরও ঈদের জামাতে অংশ নেওয়া সুন্নত। যাতে করে তারাও ঈদের আনন্দ ও দোয়ায় শরিক হতে পারে।
১০. ঈদের খুতবা শোনা ও শুভেচ্ছা বিনিময় (Listening to Khutbah & Eid Mubarak)
ঈদের নামাজের পর মনোযোগ সহকারে খুতবা শোনা (Listening to Eid Khutbah) সুন্নত। খুতবা চলাকালীন কথা বলা বা চলাফেরা করা নিষিদ্ধ। নামাজ শেষে একে অপরের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা (Exchanging Eid greetings/Eid Mubarak) সুন্নত। শুভেচ্ছা স্বরূপ বলা যেতে পারে— ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’ (May Allah accept from us and from you)।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
ঈদের আনন্দ কেবল খাওয়া-দাওয়া আর আনন্দ-উল্লাসে নয়, বরং রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সুন্নাহ আমলের মাধ্যমে ঈদের এই আনন্দকে প্রকৃত অর্থেই সার্থক করে তোলা সম্ভব।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


