মহাকাশকে আমরা অনেক সময় একেবারে স্থির বলে মনে করি, কিন্তু বাস্তবে তা সবসময় পরিবর্তনশীল। আকাশের এক কোণে এখনো ছুটে চলেছে বহু পুরোনো এক বিস্ফোরণের চিহ্ন। প্রায় এক হাজার বছর আগে একটি তারা বিস্ফোরিত হয়েছিল, আর সেই বিস্ফোরণের ধোঁয়া ও গ্যাস এখনো মহাশূন্যে ছড়িয়ে যাচ্ছে।

সম্প্রতি নাসার হাবল মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র ‘ক্র্যাব নীহারিকা’র নতুন ছবি তুলেছে। আগের ছবির সঙ্গে তুলনা করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, গত ২৫ বছরে নীহারিকাটি আরও বিস্তৃত হয়েছে এবং এর আকৃতিতেও পরিবর্তন এসেছে।
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই নীহারিকার সৃষ্টি হয় ১০৫৪ সালে একটি তারার ভয়াবহ বিস্ফোরণের মাধ্যমে। সে সময় এটি এতটাই উজ্জ্বল ছিল যে দিনের বেলাতেও আকাশে দেখা গিয়েছিল। বর্তমানে এটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৬,৫০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করছে।
হাবলের তোলা ছবিতে দেখা যায়, নীহারিকার ভেতরের গ্যাস ও ধূলিকণা দ্রুত গতিতে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। সরু ও লম্বা গ্যাসরেখাগুলো ঘণ্টায় প্রায় ৩৪ লক্ষ মাইল বেগে বাইরে ছুটে যাচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা জানান, এই বিস্তারের মূল কারণ একটি ‘পালসার’, যা বিস্ফোরিত তারার অবশিষ্ট শক্তিশালী ঘূর্ণায়মান অংশ। এর শক্তিশালী প্রভাব আশপাশের গ্যাসকে বাইরে ঠেলে দিচ্ছে।
গবেষক উইলিয়াম ব্লেয়ার বলেন, আমরা আকাশকে স্থির ভাবলেও আসলে তা নয়। দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণের ফলে বোঝা যাচ্ছে, মহাকাশও পরিবর্তিত হচ্ছে, নড়ছে এবং প্রসারিত হচ্ছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি দেখায়, একটি তারার মৃত্যু থেকে তৈরি হওয়া নীহারিকা কীভাবে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই পরিবর্তন এখন মানুষের জীবনকালেই চোখে দেখা যাচ্ছে—যা একসময় কল্পনারও বাইরে ছিল।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


