সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জ-৩ আসনে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মুফতি সাঈদ নূর গভীর রাতে ঘুমিয়ে থাকলেও তার নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী মাদ্রাসার শিশু-কিশোরদের ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ সদর থানার পাশে খালপাড় এলাকায় একটি হ্যালোবাইক ও দুটি মই ব্যবহার করে গাছের উঁচু স্থানে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী মুফতি সাঈদ নূরের রিকশা প্রতীকের ব্যানার টানাতে দেখা যায় এক মাদ্রাসা শিক্ষককে। এ সময় তার সঙ্গে কয়েকজন শিশু-কিশোর শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব শিক্ষার্থীর অধিকাংশই মুফতি সাঈদ নূরের নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা নয়। তারা মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার দারুল জান্নাত তাহফিযুল কুরআন মাদ্রাসা ও মারকাযুস সুন্নাহ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের জেলা শাখার সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও মারকাযুস সুন্নাহ মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মুজাহিদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে কোমলমতি এসব শিক্ষার্থী দিয়ে নির্বাচনী ব্যানার টানানো হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিলেন— ঘিওর উপজেলার জাবরা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. ওলিউল্লাহ (১৫), দৌলতপুর উপজেলার উয়াইল গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে আল ইসলাম রাব্বি (১৩), যশোরের বেনাপোল উপজেলার নারায়ণপুর নতুনপাড়া গ্রামের মো. আব্দুস সাত্তারের ছেলে মো. আসাদুল্লাহ (১৪), দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা ইউনিয়নের পশ্চিম পারুরিয়া গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে আব্দুল হান্নান (১৬), একই ইউনিয়নের কৈল পশ্চিমপাড়া গ্রামের আহসান হামীবের ছেলে মোশারফ হোসেন (১৯), জিয়নপুর এলাকার মো. আবু দাউদের ছেলে মো. আশরাফুল ইসলাম (১৪) এবং মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জয়রা এলাকার মইনুদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদউল্লাহ সিফাত (১৪)। ঘটনার সময় মোহাম্মদউল্লাহ সিফাতকে হ্যালোবাইকের সিটে বসে ঘুমাতে দেখা যায়।

নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা ও শিশু অধিকার আইন অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা, পোস্টার বা ব্যানার টানানো, লিফলেট বিতরণ কিংবা স্লোগান দেওয়াসহ কোনো ধরনের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে শিশুদের ব্যবহার করতে পারে না। এটি শিশু অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
এ বিষয়ে শিক্ষক হাফেজ মুজাহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মাগরিবের পর ক্লাস শেষ করে রাত সাড়ে নয়টার পর থেকে প্রচারণার কাজ শুরু করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মৌখিক সম্মতি নিয়েই কাজটি করা হয়েছে। শুধু নির্বাচনী বিষয় নয়, কওমি ঘরানার আলেম-ওলামারা একজন বিজ্ঞ আলেমের সম্মানে শিশু থেকে শুরু করে সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে চেষ্টা করছি। তার নির্বাচনী, ব্যক্তিগত কিংবা পারিবারিক যে কোনো কাজে আমরা সারারাত কাজ করতেও প্রস্তুত। এতে আমাদের বা ছাত্রদের কোনো সমস্যা নেই।”
এ বিষয়ে রাত সোয়া ১২টার দিকে মুফতি সাঈদ নূরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘুমিয়ে থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। গভীর রাতে মাদ্রাসার শিশু-কিশোরদের দিয়ে ব্যানার টানানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “যারা এ কাজটি করেছে, তারা আমার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেনি বা অনুমতি নেয়নি। এটি অন্যায় হয়েছে এবং কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। আমি এটি সমর্থন করি না।”
এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, “শিশুদের দিয়ে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা বা ব্যানার টানানোর সুযোগ নেই। এটি স্পষ্টভাবে শিশু আইনের লঙ্ঘন। কখন, কোথায় এ ঘটনা ঘটেছে— বিস্তারিত তথ্য পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


